কাঁচা পাট রপ্তানি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে বেড়েছে। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে পাটজাত পণ্যের রপ্তানি। এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে কাঁচা পাট রপ্তানিতে।

অন্যদিকে পাটের তৈরি সুতা-কুণ্ডলী এবং বস্তা ও ব্যাগের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় নি। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৮৬ কোটি ৮৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ওই অর্থবছরের ৯ মাসে আয় হয়েছিল ৬৫ কোটি ২৮ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৯ মাসের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৯ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। এই সময়ের মধ্যে আয় হয়েছে ৬৪ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ কম। একইসঙ্গে গত অর্থবছরের ৯ মাসের তুলনায় পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৭২ শতাংশ কমেছে।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১১ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার; পাটের সুতা ও কুণ্ডলী রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৫৫ কোটি ২৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার; পাটের সুতা ও কুণ্ডলী রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯ কোটি মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ কোটি মার্কিন ডলার।

সম্প্রতি প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে কাঁচা পাট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এই সময়ের মধ্যে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১০ কোটি ২০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে এই খাতে।

ইপিবির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৯ মাসে পাটের সুতো ও কুণ্ডলী রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৪০ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ কম। একইসঙ্গে গত অর্থবছরের তুলনায় এই খাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ১ দশমিক ০৭ শতাংশ কমেছে।

এই সময়ে পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৯ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে আয় হয়েছিল ১১ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে পাটের অন্যান্য দ্রব্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ কম। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতের আয় ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here