কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার জন্য রাজধানী বার্সেলোনায় চলছে গণভোট। স্পেনের সরকার এর বিরুদ্ধে। তাই পুলিশের বাধার মুখে ভোট দিতে গিয়ে ঘটেছে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা। আহত হয়েছেন তিনশতাধিক ব্যক্তি। এমন অবস্থায় নিরাপত্তার খাতিরে রবিবার বার্সেলোনা ও লাস পালমাসের লা লিগা ম্যাচটি হয়েছে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। অচেনা সেই নিস্তব্ধ ন্যু ক্যাম্পে লিওনেল মেসির জোড়া গোলে জিতেছে কাতালানরা। লাস পালমাসকে ৩-০ গোলে হারিয়ে লিগে শতভাগ সফলতা ধরে রাখলো বার্সেলোনা।

ম্যাচটি বাতিল করতে সুপারিশ করেছিল বার্সেলোনা ফুটবল কমিটি। কিন্তু তাদের প্রত্যাখ্যান করে লা লিগার শীর্ষ কর্মকর্তারা। যথাসময়ে দুই দল মাঠে নামলেও ছিল না কোনও দর্শক। তাই সবসময়ের প্রাণচঞ্চল ন্যু ক্যাম্পকে বড্ড অচেনা লাগছিল, যেন খেলোয়াড়দের অনুশীলন চলছিল।

লা লিগায় রোববারের ম্যাচটি দিয়ে পুয়োলকে ছাড়িয়ে বার্সার তৃতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলার হয়েছেন মেসি। বার্সার জার্সি গায়ে ৫৯৩তম ম্যাচ খেললেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার সামনে এখন কেবল জাভি হার্নান্দেজ এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। জাভি খেলেছেন ৭৬৭ ম্যাচ। লাস পালমাসেরটি নিয়ে বর্তমান অধিনায়ক আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ম্যাচ সংখ্যা ৬৩৮টি।

ম্যাচটি শুরুতে আগে থেকেই শঙ্কাই ছিল না হওয়ার। উগ্র সমর্থকরা দাঙ্গা করতে পারে, এমন আশঙ্কায় ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল বার্সেলোনাই। কিন্তু ক্লাবটির দাবি কানে না তুলে ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা জানায় লা লিগা। বার্সা খেলতে না চাইলে লাস পালমাসকে ৩-০তে জিতিয়ে দেওয়া হবে এমন হুমকিও আসে। শেষ পর্যন্ত ‘রুদ্ধদ্বার’ভাবেই খেলেছে কাতালান দলটি। কাকতালীয় ভাবে ম্যাচটি ৩-০তে জিতে নিয়েছে বার্সাই।

দর্শকহীন ভাবে খেলতে হয়েছে বলেই কিনা প্রথমার্ধে একপ্রকার ‘ঘুমপাড়ানি’ ফুটবল খেলেছে বার্সেলোনা। বলার মত আক্রমণ হয়েছে কেবল ৩২ মিনিটে। সেসময় পাউলিনহোর মাথা ছোঁয়া বল অল্পের জন্য পালমাসের বার ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়।

প্রথম ৪৫ মিনিটে স্বাগতিকদের চেয়ে বরং পালমাসের গোলের সুযোগ ছিল বেশি। ২৮ মিনিটে অ্যাকুইলানির ক্রস ক্যালিয়ারি পা ছোঁয়াতে পারলেই গোলটা পেয়ে যেত অতিথিরা। ৪৩ মিনিটে ক্যালিয়ারিকেই আবার গোলবঞ্চিত করেছে গোলবার।

বিরতি থেকে ফিরে আসল রূপে ধরা দেয় বার্সা। ৪৭ মিনিটে ৩৫ গজ দূর থেকে নেওয়া লিওনেল মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক লাফিয়ে ঠেকিয়ে দেন পালমাস গোলরক্ষক সিসিজোলা। পরের মিনিটেই ডি-বক্সের বাইরে থেকে ইভান রাকিটিচের বাতাসে ভাসানো শট একইভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছেন তিনি।

ম্যাচের ৪৯ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় বার্সেলোনা। মেসির নেওয়া কর্নার কিক থেকে মাথা ছুঁয়ে বল পালমাসের জালে জড়িয়ে কাতালানদের এগিয়ে দেন সার্জিও বুস্কেটস।

পরে ৫৬ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোলটি প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন মেসি। লুইস সুয়ারেজের পা থেকে আসা ক্রসে মাথা ছুঁয়ে প্রায় জাল খুঁজে নিচ্ছিলেন। সেদফা হয়নি!

ম্যাচের ৭০ মিনিটে আবারও গোলবঞ্চিত হন মেসি। বামপ্রান্ত দিয়ে তার নেওয়া শট ডানপ্রান্তের বার ঘেঁষে বাইরে চলে গেছে। পরের মিনিটে গোল পেয়েও বঞ্চিত হয়েছেন রেফারির অফসাইড ঘোষণায়।

এক মিনিটেই দুবার সুযোগ হারানো মেসি সেই ৭০ মিনিটেই পেয়েছেন ম্যাচে নিজের প্রথম গোল। ডেনিস সুয়ারেজের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান পাসে খেলে গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে জালে জড়িয়ে দেন ফুটবল জাদুকর।

সাত মিনিট পর আবারও সাফল্য পেয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এবার লুইস সুয়ারেজের পাস থেকে লাস পালমাস গোলরক্ষককে আবারও পাঁকি দেন। বার্সার জার্সি গায়ে নিজের ৫৯৩তম ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখার বন্দোসবত হয় এতেই।

লিগে টানা সাত জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই থাকল বার্সা। তাদের সংগ্রহ ২১ পয়েন্ট। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের থেকে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে আছে তারা। রিয়াল অবশ্য এক ম্যাচ কম

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here