স্তাদিও হের্নান্দো সিলেস। ফুটবল বিশ্বের জন্য কঠিন এক পরীক্ষায় জায়গা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ফুট উপরের লা পাজ শহরের এই স্টেডিয়ামে স্বাভাবিক ফুটবল খেলাটা সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য। স্বাগতিক বলিভিয়া ঘরের মাঠের এই কন্ডিশনের সুবিধা নিয়ে ঘায়েল করার চেষ্টায় থাকে সবসময়। লাতিন আমেরিকা থেকে সবার আগে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা ব্রাজিলের মিশন ছিল সেই লা পাজে। যে পরীক্ষায় জেতা হয়নি সেলেসাওদের, বলিভিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছেড়েছে নেইমাররা।

বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের মাঠে গোলরক্ষক কার্লোস ল্যাম্পের দৃঢ়তায় ব্রাজিলের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে বলিভিয়া। অবশ্য বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে বলিভিয়ার রাজধানী থেকে জয়হীন ফেরার ঘটনা নতুন নয় ব্রাজিলের জন্য। ১৯৮৫ সালের পর বাছাইপর্বে সেখানে আর জয়ের দেখা পায়নি সেলেসাওরা।

চলতি বাছাইপর্বে এটি ব্রাজিলের টানা দ্বিতীয় ড্র। অবশ্য টিটের দল অপরাজিত থাকল ১৬ ম্যাচে। ১৭ ম্যাচে পয়েন্ট ৩৮। আর সমান ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট পাওয়া বলিভিয়া বিশ্বকাপে যেতে পারছে না।

স্কোরবোর্ডের মত ম্যাড়ম্যাড়ে অবশ্য হয়নি ম্যাচটা। নেইমার, জেসুসরা একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে গেছেন। কেবল স্বাগতিক গোলরক্ষক কার্লোস ল্যাম্পের দেয়ালটাই ভাঙতে পারেননি।

অসংখ্য সুযোগ তৈরির ম্যাচে শুরুর আধাঘণ্টা খেই খুঁজে পায়নি কোন দলই। ম্যাড়ম্যাড়ে ভাবটা কেটে ওঠার শুরু ২৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেইমারের জোরাল শটের মধ্য দিয়ে। যা কার্লোসের গ্লাভসে আটকে যায়।

ম্যাচের ৩৪ মিনিটে নেইমারের আরেকটি জোরাল শটে দেয়াল সেই কার্লোস। পাঁচ মিনিট পর জেসুসের শটে কার্লোস প্রতিরোধ। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে নেইমারের দুটি প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ফিরিয়ে স্বাগতিকদের গ্যাব্রিয়েল ভালভার্দে জাল অক্ষত রাখেন।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বেঁচে যায় ব্রাজিলও। স্বাগতিকদের বেহার্নের বুলেট শট অতিথিদের ক্রসবারে আটকে যায়।

মধ্যবিরতির পরপরই নেইমারকে আরেকবার বঞ্চিত করেন কার্লোস। ৬০ মিনিটে পিএসজি তারকার ভলিতে আবারও দেয়াল বলিভিয়ার গোলরক্ষক। ম্যাচে ৮৩ মিনিটে নেইমারের ক্রসে জেসুসের মাথা ছুঁয়ে আসা বলেও প্রতিরোধ গড়েন সেই কার্লোসই। শেষ পর্যন্ত তাই পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় ব্রাজিলকে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here