প্রতিদিনকার খাবারে যদি একটি ফলের তরকারী থাকতে তবে আপনার সস্থ্যতার নিয়ে বেশি চিন্তা করতে হবে না। যদিও ফলটিকে সবাই সবজি ভেবে ভুল করে। আকারে ছোট। সারা গা এবরো-খেবরো। আর খেতেও বেজায় তেঁতো। নানা গুণে ভরা সেই ফলটি হলো করলা! এটি সবর্গুণে সমৃদ্ধ একটি অতি উপকারি ফল, যা নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরের প্রতিটি ভাইটাল অর্গানের কর্মক্ষমতা তো বাড়েই। সেই সঙ্গে আরও অনেক উপকার পাওয়া যায়। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি। সেই সঙ্গে মজুত রয়েছে ডায়াটারি ফাইবার, ক্যালসিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, পটাশিয়াম আবও আরও কত কী! আর এই সবকটি উপাদান যে নানাভাবে আমাদের কাজে লেগে থাকে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আসুন জেনে নিই করলার কয়েকটি গুণের কথা।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ

আপনার পরিবারে যদি ডায়াবেটিস রোগের ইতিহাস থাকে তবে করলার রস খাওয়া জরুরি। করলার রস পান করলে শরীরের ভিতরে পলিপেপটাইড-পি নামে একটি উপাদানের মাত্রা বেড়ে যেতে শুরু করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে প্রকাশিত একটি স্টাডি অনুসারে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্তরা যদি নিয়মিত এই ঘরোয়া ওষুধটি গ্রহণ করেন, তাহলে ব্লাড সুগার একেবারে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ফলে ডায়াবেটিস সম্পর্কিত নানাবিধ রোগ হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট ভালো রাখে

হার্টের ক্ষতির জন্য কোলেস্টেরল অনেকাংশে দায়ী। তাই রক্তে যাতে কোনোভাবে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা না বাড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজটি করবেন কীভাবে? খুব সহজ। প্রতিদিন করলার রস খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে। আসলে করলায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন এবং ফলিক অ্যাসিড। এই দুটি উপাদান কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি শরীরে নুনের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মধ্যে দিয়ে ব্লাড প্রেসারকে কন্ট্রোলে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে শরীরে যখন কোলেস্টরলের মাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে তখন হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকে না।

ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়

করলায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রপাটিজ, যা রক্তে মিশে থাকা টক্সিক উপাদানদের বার করে দেয়। ফলে অসময়ে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, এই ফলটিতে উপস্থিত ভিটামিন এ,সি এবং জিঙ্ক বলিরেখা কমাতে এবং ত্বককে টানটান রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্কিনের জেল্লা ক্রমশ বাড়তেই থাকে। তাই বয়সের কাঁটাকে থামিয়ে যদি অপরূপ সুন্দরি হয়ে উঠতে চান, তাহলে ভুলেও রোজের ডায়েট থেকে করলার রসকে বাদ দেবেন না যেন!

লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ায়

অতিরিক্ত মসলা জাতীয় খাবার কিংবা জাঙ্ক ফুড গ্রহণের কারণে লিভারের অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে করলা খাওয়া শুরু করলে বাওয়েল মুভমেন্টের উন্নতি তো ঘটেই, সেই সঙ্গে লিভারের কর্মক্ষমতাও বাড়তে শুরু করে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ কমার পাশাপাশি লিভারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

ওজন কমায়

শত চেষ্টা করেও ওজন কমাতে পারছেন না? চিন্তা নেই! করলার রস খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন হাতে-নাতে ফল পাবেন। আসলে এতে উপস্থিত ডায়াটারি ফাইবার অনেকক্ষণ পেট ভার রাখে। ফলে খিদে কমে যাওয়ার কারণে খাওয়াও কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমতে শুরু করে। এখানেই শেষ নয়, ওজন কমাতে আরও একভাবে করলা উপকারে লেগে থাকে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে করলায় উপস্থিত নানাবিধ খনিজ এবং অন্যান্য উপকারি উপাদান শরীরে জমে থাকা চর্বিকে ঝরিয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। ফলে ওজন কমতে সময়ই লাগে না।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়

করলায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রপাটিজ শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বার করে দিয়ে নানাবিধ রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষণতার উন্নতি ঘটিয়ে অ্যালার্জি এবং সংক্রমণের প্রকোপ কমাতেও সাহায্য করে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ফার্মাসিউটিকাল রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুসারে করলায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক এবং অ্যান্টি-টিউমার প্রপাটিজ, যা প্রস্টেট, ব্রেস্ট এবং সার্ভিকাল ক্যান্সারকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here