মিয়ানমারের উগ্র সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় আরও নয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে ২৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হল।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইন উদ্দিন খান জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, টেকনাফ সদরে হাবিরছড়া, রাজারছড়া এলাকায় জোয়ারের পানির সঙ্গে সৈকতে আরও নয় লাশ ভেসে আসে। বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন লাশগুলো উদ্ধার করে। নয় জনের মধ্যে আট নারী ও একটি শিশু রয়েছে।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহপরীর দ্বীপে নাফ নদীর ঘোলারচর পয়েন্টে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাটি ডুবে যায়। আজ উদ্ধার হওয়া ৯ জনসহ এ পর্যন্ত ২৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে ১২টি শিশু, ১০ নারী ও একজন পুরুষ।

নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া মিয়ানমারের নাগরিক ফাতেমা বেগম জানান, সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে তারা ৬০ জনের একটি দল নৌকায় করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছিলেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুই ছিল বেশি। নাফ নদীতে হঠাৎ প্রচণ্ড বাতাসে উল্টে গিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। ওই সময় তাদের চিৎকারে বিজিবির একটি টহল দল বিষয়টি  জানতে পেরে ১৭ জনকে উদ্ধারে সক্ষম হয়।

রাখাইন রাজ্য থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পথে নাফ নদী এবং বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গেও প্রতিনিয়ত লড়তে হচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলমানদের। ২৯ আগস্ট থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত নাফনদী ও বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গাবাহী ২৫টি নৌকাডুবির ঘটনায় ১৫৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি। তিনি নৌকার মাঝি ছিলেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here