আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকারকে রাজি করানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন রোহিঙ্গাদের আংশিক প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর কৌশল। তার অভিযোগ, নানা অজুহাতে জাতিসংঘের সুপারিশ বাস্তবায়নে দেরি করছে মিয়ানমার।

তিনি বলেন কফি আনান কমিশনের সুপারিশ মানলে দ্রুত রোহিঙ্গা সংকট সমাধান হবে। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো উদ্যোগী হতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সরকারের মধ্য বিভাজন হচ্ছে। সু চি এক কথা বলেন, তাদের রাষ্ট্রীয় প্রচার আর এক কথা বলে। এ সংকট মিয়ানমার সৃষ্টি করেছে। এখন এটি আঞ্চলিক সমস্যয় পরিণত হয়েছে। এতে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই। মিয়ানমার সুপরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করে যাচ্ছে। ১৯৮২ সালে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৬ অক্টোবর ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এ সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস এখনো বহাল।

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যাবাসন একটি জটিল ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারী ও সহযোগিতা ছাড়া মিয়ানমারকে দীর্ঘ মেয়াদী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আগ্রহী রাখা দুষ্কর হবে। বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চায় বহুপাক্ষিক, আঞ্চলিক, দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ এ সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলিতভাবে মিয়ানমারের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করতে হবে। যাতে দেশটির সরকার রাখাইনে স্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও জীবন-যাপনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। সামরিক বাহিনী নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়।

তিনি জানান, ১৯৭৮, ১৯৯২, ২০১২, ২০১৬ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্যাতনের শিকার হয়ে বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। মিয়ানমারের বিগত সামরিক ও সেনা সমর্থিত সরকারগুলো রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে অধিকার বঞ্চিত করে ‘রাষ্ট্রহীন’ জনগোষ্ঠীতে পরিণত করেছে। ১৯৮২ সালের বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের পথ রূদ্ধ করেছে।

২৪ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা চৌকিসমূহে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পূর্বপ্রস্তুতি অনুযায়ী, মিয়ানমার সামরিক বাহিনী উত্তর রাখাইনের মংডু, রাথিডং ও বুথিডং এলাকায় অভিযান চালায়। এরপর থেকে রোহিঙ্গারা দেশ ছাড়তে শুরু করে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here