‘অন্য বিচারপতিরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে না বসলে তো বিচার কাজ চলবে না। তাই তাঁর (প্রধান বিচারপতি) আবার ফিরে এসে দায়িত্ব নেওয়াট ‘সুদূর পরাহত।’

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আনা ১১টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার আয়োজিত এক সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ কথা বলেন।

মাহবুবে আলম বলেন, সহকর্মীরাই যদি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে না বসতে চান, তাহলে সম্পূর্ণ অচল অবস্থার সৃষ্টি হবে এবং এই অচল অবস্থায় দেশ চলতে পারে না। কাজেই অন্যান্য বিচারপতিরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে না বসলে তো বিচার কাজ চলবে না। বাস্তব অবস্থা বিচার করলে তাঁর আবার ফিরে এসে বসা সুদূর পরাহত বলে তাঁর মনে হয়।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তার ভিত্তি রয়েছে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তিনি বলেছেন, ‘যে সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে, যদি কোনো রকম সত্য না হত, দেশের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এসমস্ত কথা বলা কি সম্ভব হত?’

বিচারপতি সিনহা বিদেশ যাওয়ার সময় যেসব কথা বলেছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারপতির সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, অর্থ পাচার ও নৈতিক স্খলনসহ ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সহকর্মীরা এর ব্যাখ্যা চাইলে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। তাই তার সঙ্গে বসতে চান না আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতি।

সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্নীতির অভিযোগের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা না পেয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিচারকাজ পরিচালনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার সহকর্মী বিচারকরা।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “দেশবাসীর জানা উচিৎ, সরকার তাকে বসার বিষয়ে কোনো রকম বিরত করেনি। বরঞ্চ তার সম্পর্কে কিছু তথ্য-উপাত্ত পেয়ে তার সহকর্মীরা বিচারপতিরা তার সাথে বসতে চাননি। এটা হলো বাস্তব অবস্থা এবং এজন্যই তাকে ছুটি নিতে হয়েছে।”

গত জুলাই মাসে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দেওয়ার পর থেকে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে থাকা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সংসদে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন দুই মন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিচারপতি সিনহার ভাইয়ের নামে রাজউকের প্লট নেওয়ায় অনিয়মের কথা সংসদে বলেছিলেন। যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথাও বলেছিলেন তিনি।

সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মালিকানাধীন ব্যাংকে বেনামে বিচারপতি সিনহার অর্থ জমা রাখার কথা বলেছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here