প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটির আবেদনপত্র এবং বিদেশ যাওয়ার আগে গণমাধ্যম কর্মীদের দেয়া চিঠিতে অসুস্থতার বিষয়ে দুই বক্তব্য নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলের আলোচনায় ডাকা হয়েছে আইনমন্ত্রী আনিসুল হককেও। এই আলোচনার আগে এ বিষয়ে অবস্থান জানাতে রাজি নয় ক্ষমতাসী দল।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ভিকারুন নিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এ দুটি লিখিত বিষয় নিয়ে আমাদের দলের কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভা হবে আজ সন্ধ্যায়, সেখানে আলাপ আলোচনা করে আমাদের দলের বক্তব্য দেব।’

গত ২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির কাছে লেখা এক চিঠিতে প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, ‘আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আমি বেশ কিছুদিন যাবত নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছি। আমি ইতিপূর্বে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন ছিলাম। বর্তমানে আমি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক সুস্থতার জন্য বিশ্রামের একান্ত প্রয়োজন।’

প্রধান বিচারপতি ছুটির ইচ্ছা জানানোর পর ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত তার ছুটি অনুমোদন করেছেন রাষ্ট্রপতি। পরে তা ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আর শুক্রবার রাতে প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। এই দেশটি ছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা যাবেন এবং ১০ নভেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাওয়ার আগে সাংবাদিকদেরকে যা বলেন, তা তার এই চিঠির পুরো উল্টো। তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ নই। আমি ভালো আছি।’ সিনহা আরও বলেন, ‘আমি পালিয়ে যাচ্ছি না, আমি আবার ফিরে আসবো। আমি কিছুটা বিব্রত।’

পরে নিজের বক্তব্যের একটি লিখিত কপিও সাংবাদিকদেরকে দেখান প্রধান বিচারপতি।

প্রধান বিচারপতির সব শেষ এই বক্তব্যের বিষয়টি নিয়েই কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তিনি (প্রধান বিচারপতি) ছুটি চেয়েছেন ওটাও লিখিত বিষয়। আর সাংবাদিকদের কাছে বিদেশে যাওয়ার প্রাক্কালে যেটি দিয়েছেন এটাও লিখিত বিষয়। এ দুটি লিখিত বিষয় নিয়ে আমাদের দলের কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভা হবে আজ সন্ধ্যায়, সেখানে আলাপ আলোচনা করে আমাদের দলের বক্তব্য দেবো।’

এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তিনি (প্রধান বিচারপতি) তো অসুস্থ বলে ছুটি চেয়েছেন রাষ্ট্রপতির কাছে। দুটো চিঠি নিয়েই আমাদের আলাপ-আলোচনা করতে হবে।’

প্রধান বিচারপতির ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে দেয়া চিঠি গণমাধ্যমে প্রকাশের আগে বিষয়টি নিয়ে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনিই প্রথম জানান যে প্রধান বিচারপতি অসুস্থ। এখন উল্টো বক্তব্য আসার পর আওয়ামী লীগের আলোচনায় আইনমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তিনি (আইনমন্ত্রী) জোর গলায় বলেছেন অসুস্থতার (প্রধান বিচারপতি) কারণে ছুটি চেয়েছেন। তাকেও আমাদের আজকের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’

প্রধান বিচারপতি ছুটিতে যাওয়ার ইচ্ছা জানানোর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্ম হয়। বিএনপি অভিযোগ করতে থাকে, তাকে জোর করে সরকার দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। তবে প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাওয়ার আগে স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন তিনি ফিরে আসবেন। আগামী ৩১ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here