প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, আমি অসুস্থ নই, ছুটি কাটানো শেষে আবার ফিরে আসবো।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর হেয়ার রোডের বাসভবন থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝানো হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, মন্ত্রীদের বক্তব্যে (সমালোচনায়) আমি বিব্রত। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকুক, এটাই আমি চাই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে এক পর্যায়ে তিনি তাঁর প্যাডে লিখিত বক্তব্যের একটি কপি গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে তুলে দেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি, কিন্তু ইদানিং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী ও বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সরকারের একটা মহল আমার রায় ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে পরিবেশন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন, যা অচিরেই দুরীভুত হবে বলে আমার বিশ্বাস। সেই সাথে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমি একটু শংকিতও বটে। কারণ, গতকাল প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণতম বিচারপতির উদ্বৃতি দিয়ে মাননীয় আইনমন্ত্রী প্রকাশ করেছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অচিরেই সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনে পরিবর্তন আনবেন। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো রেওয়াজ নেই। তিনি শুধুমাত্র রুটিন মাফিক দৈনন্দিন কাজ করবেন। এটিই হয়ে আসছে। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজে অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে। এবং এর দ্বারা বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরো অবনতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।”

এর আগে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে অস্ট্রেলিয়াগামী সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের টিকেন কাটেন তিনি। শুক্রবার সকাল থেকেই তার বাসভবনে ভিড় জমান আত্মীয়-স্বজনরা। দেখা করতে যাওয়া আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান বিচারপতির ভাই ড. এন কে সিনহা, মেয়ে সীমা সিনহা, শ্যালিকা শীলা সিনহা, ভাতিঝি জামাই রাজমনো সিংহ, সুজিত সিংহ, রামকান্ত সিংহ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১ আগষ্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। রায়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পক্ষ থেকে তার অপসারণেরও দাবি তোলা হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here