বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন চিলির। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ০-৩ গোলে হেরে রাশিয়ার টিকেট বঞ্চিত হন অ্যালেক্সিস সানচেজ, আর্তুয়া ভিদালরা। আরেক ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে কলম্বিয়া ও চিলি। ফলে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় কলম্বিয়া। আর পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে থাকা পেরু, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে প্লে-অফ।

অভিযোগ উঠেছে কলম্বিয়া এবং পেরু নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে চিলিকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে। ম্যাচ চলাকালীন কলম্বিয়ান তারকা রাদামেল ফ্যালকাওকে প্রতিপক্ষ দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলতে দেখা যায়। আর এটি নিয়েই সন্দেহের সূত্রপাত। কিন্তু কি বলছিলেন ফ্যালকাও?

ম্যাচ শেষে পেরুর মিডফিল্ডার রেনেতো তাপিয়া এএসকে জানান, কলম্বিয়ার রাদামেল ফ্যালকাওয়ের সঙ্গে মাঠে তার কথা হয়েছিলো এবং ফ্যালকাও তাকে গ্রুপের অন্য ম্যাচগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেছিলো।

ফ্যালকাওয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিলো এবং সে আমাকে বলেছিলো যে, আমরা দুই দলই এগিয়ে আছি (কোয়ালিফাই করছি)।

আর ফ্যালকাও বলেছেন, আমরা অন্য খেলাগুলোর স্কোর জানতে পেরেছিলাম। আর এটাই আমি পাওলো গুইরেরোকে (পেরুরু স্ট্রাইকার) বলেছিলাম।

 

দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো সাধারণত শুরু হয় একই সময়ে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের ব্রাজিল ৫৪, ৫৬ এবং ৯২ মিনিটে গোল করে চিলির হার নিশ্চিত করে। সাওপাওলোর অ্যালিয়েঞ্জ পার্কে চিলিয়ানদের হার নিশ্চিত হওয়ার খবর লিমা ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে পেরু-কলম্বিয়া, এমনটাই দাবি উঠেছে।

স্বাগতিক পেরুর বিপক্ষে প্রথমে এগিয়ে যায় কলম্বিয়াই। ফ্যালকাওয়ের পাস থেকে গোল করেন হামেস রদ্রিগেজ। ৭৬তম মিনিটে পেরুকে সমতায় পাবলো গুয়েরেরো। সরাসরি বিশ্বকাপের টিকেট পেতে ঘরের মাঠে ম্যাচের শেষ দিকে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে পেরু। তবে হঠাৎই বদলে যায় দৃশ্যপট। গরম লোহায় পানি ঢেলে দেয়ার মতো। নিমিষেই শান্ত হয়ে যায় ম্যাচে উত্তেজনা।

ম্যাচের ভিডিও ফুটেজে, ফ্যালকাওকে হাত দিয়ে মুখ আড়াল করে পেরুর কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। ফ্যালকাওয়ের সঙ্গে কথা বলার পর গুইরেরোকে কোচের সঙ্গে পরামর্শও করতে দেখা যায়।

সমালোচকরা বলছেন, ফ্যালকাও পেরুর প্লেয়ারদের যে কথা বলেছিলেন তার মর্মার্থ হতে পারে, ধীরে খেলো; এই ফলাফল থাকলেও আমরা দুই দলই বিশ্বকাপে খেলতে পারবো।

ঘটনাগুলো খুব দ্রুত ঘটে যায় এবং এরপরই শেষ বাঁশি বাজার আগে কয়েক মিনিট পেরুর ডিফেন্ডাররা নিজেদের মধ্যে বল অদলবদল করে কাটিয়ে দেয়। আক্রমণে যাওয়ার কোন চেষ্টায়ই করেনি তারা। অপরদিকে কলম্বিয়ার খেলোয়াড়রাও বল কাড়ার কোন চেষ্টা করেনি।

কলম্বিয়া-পেরুর এমন খেলার বিরুদ্ধে ফিফার কাছে অভিযোগ আনতে যাচ্ছে চিলির ফুটবল ফেডারেশন। এমনটাই খবর দিয়েছে দেশটির একটি দৈনিক পত্রিকা লা তেরসিরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দুই দলের খেলার ধরণ বিবেচনায় নিয়ে এর বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের তদন্ত হতে পারে।

ফিফা আইনের ৬.৩.২ অনুচ্ছেদ মতে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আনতে পারে চিলি। অনুচ্ছেদটিতে ম্যাচের গতিবিধি এবং ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এমন বিষয়কে বেআইনি বলা হয়েছে।

এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে, প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার, নিম্ন বিভাগে অবনমন, পয়েন্ট কাটা অথবা পুরস্কার বাতিলের শাস্তির বিধান আছে।

তার মানে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের রোমাঞ্চ এখনো বাকি!

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here