মাওরো ইকার্দির হ্যাটট্রিকে নগর প্রতিদ্বদ্বি এসি মিলানকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে সিরি-আ লীগে শীর্ষে থাকা নাপোলির সাথে জমাট লড়াইয়ে টিকে রইলো ইন্টার মিলান। এশিয়ান মালিকানাধীন দুই ক্লাবের লড়াইটি মূলত হয়ে উঠেছিল ‘চাইনিজ’ ডার্বি, যাতে শেষ পর্যন্ত জয় হয় ইন্টার মিলানের।

রোববার মিলান ডার্বিতে ইন্টার অধিনায়ক ইকার্দি সান সিরোতে শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণের

পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন। এর আগে ২৮ ও ৬৩ মিনিটে তিনি দলের পক্ষে দুটি গোল করেছিলেন। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড

সুসো ৩৬ মিনিটে ও গিয়াকোমো বোনাভেনচুরা ৮১ মিনিটে আত্মঘাতি গোল করে স্বাগতিকদের বেশ ভালভাবেই লড়াইয়ে টিকিয়ে

রেখেছিলেন।

গত সপ্তাহে রোমার কাছে জুভেন্টাস ১-০ গোলে পরাজিত হওয়ায় ইন্টার এখন একক ভাবে লীগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। শীর্ষে থাকা নাপোলির থেকে তারা মাত্র ২ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। আগামী সপ্তাহে শীর্ষ এই দল একে অপরের মুখোমুখি হবে।

ম্যাচ শেষে হ্যাটট্রিকম্যান ইকার্দি বলেছেন, ‘ডার্বিতে তিন গোল করা সত্যিই বিশেষ কিছু। তবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ইন্টার জয়ী হয়েছে। এখনই লীগের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলার সময় আসেনি। প্রাক-মৌসুম থেকেই আমরা সঠিক পথে রয়েছি। আর এখন আগামী ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নাপোলিকে নিয়েই আমরা চিন্তা করছি। এটা আমার জন্য অবশ্যই একটি বিশেষ ম্যাচ, কারন তারা শীর্ষে রয়েছে ও ইউরোপের সেরা ফুটবলই তারা খেলে থাকে।’

এদিকে লোরেনজে ইনসিগনের একমাত্র গোলে শনিবার রোমাকে হারিয়ে নাপোলি আট ম্যাচে টানা অষ্টম জয় তুলে নিয়েছে। দিনের অপর ম্যাচে সিরো ইমোবিলের দ্বিতীয়ার্ধের গোলে ল্যাজিওকে ২-১ গোলে পরাজিত করে দুই বছরের মধ্যে ঘরের মাঠে প্রথম জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাস। সমান ১৯ পয়েন্ট করে সংগ্রহ করে চতুর্থ স্থানে রয়েছে জুভেন্টাস ও ল্যাজিও। চার পয়েন্ট পিছিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে রোমা।

লীগে এনিয়ে চতুর্থ পরাজয়ে টেবিলের দশম স্থানে নেমে গেছে এসি মিলান। এতে কোচ ভিনসেনজো মনটেলা বেশ চাপে পড়েছেন। ম্যাচ শেষে মিলান কোচ মনটেলা বলেছেন, এই মুহূর্তে টেবিলের দিকে তাকাও। সবকিছুই আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু এখনো মৌসুমে অনেক লম্বা সময় বাকি, আমাদের অবশ্যই মাঠের চ্যালেঞ্জে ফিরে আসতে হবে। এই দলের সব ধরনের গুনাবলী রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি আজকের ম্যাচে অন্তত ড্র করাটা উচিত ছিল। এরপরেও আমি মনে করি চতুর্থ স্থানে থেকে লীগ শেষ করা এখনো সম্ভব।

উত্তেজনাকর প্রথমার্ধে প্রায় ২৫ মিনিট পরে প্রথম সুযোগটি সৃষ্টি করেছিলেন ইন্টারের মিডফিল্ডার এন্টোনিও কানড্রেভা। কিন্তু তার শট ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে। অন্যদিকে সুসো ও হোয়াও মিরান্টার হেড অল্পের জন্য গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।

২৮ মিনিটে কানড্রেভার ক্রস থেকে ইকার্দি আর কোন ভুল করেননি। বিরতির পরপরই সুসোর গোলে সমতা ফেরায় মিলান। ৬৩ মিনিটে ইখান পেরিসিসের ক্রস থেকে ইকার্দি দলের আবারো ইন্টারকে এগিয়ে দেন। ৮১ মিনিটে অবশ্য বোনাভেনচুরার আত্মঘাতি গোলে পুনরায় সমতায় ফিরে মিলান। ম্যাচের শেষ মিনিটে স্পট কিক থেকে ইকার্দি হ্যাটট্রিক পূরণের পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here