ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিদ্বেষী বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, মুসলিম দেশগুলোকে দুর্বল ও খণ্ড-বিখণ্ড করা এবং এ অঞ্চলের ভৌগোলিক সীমানায় পরিবর্তন আনার জন্য ইসরাইল ও মার্কিন কর্মকর্তারা যে ষড়যন্ত্র এঁটেছিলেন তা ব্যর্থ হয়েছে। আইআরজিসি’র বিবৃতিতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে আরো জোরদার করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নসহ ইরানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করা এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এ ক্ষেত্রে আইআরজিসি’র ভূমিকা শত্রুদের সব হিসেবে নিকেশ পাল্টে দিয়েছে এবং তারা এখন ইরানের শক্তিকে বিবেচনায় আনতে বাধ্য হচ্ছে। ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে আইআরজিসি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রমাণ করেছে, যেকোনো হুমকি মোকাবেলার ক্ষমতা এই বাহিনীর রয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, আগ্রাসী শক্তিগুলো ভালো করেই জানে কোনো দেশের যদি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা না থাকে কিংবা যদি দুর্বল হয় তাহলে সহজেই তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা সম্ভব। চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বর্তমানে ইরান প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে শত্রুর হুমকির সম্মুখীন। এ কারণে নিজ প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানো ইরানের এখন প্রধান লক্ষ্য।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি বুদ্ধিজীবীদের এক সমাবেশে তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অব্যাহত শত্রুতামূলক আচরণের কথা উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, শত্রুরা কিছুতেই চায় না ইরান এ অঞ্চলে একটি প্রভাবশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক। রাজনৈতিক, সামরিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে ইরানের উন্নতিতে শত্রুরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ, চিন্তিত ও হতাশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিকারী ও আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের শক্তিমত্বার প্রমাণ দিয়েছে এবং এখন তারা এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে যাতে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি গতকাল (বৃহস্পতিবার) রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আইআরজিসির ভূমিকার প্রতি রুশ সরকারের সমর্থনের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, আইআরজিসি ইরানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোর সরকার ও জনগণের রক্ষা কবচ এবং কোনো শক্তিই এ দায়িত্ব থেকে আইআরজিসিকে বিরত রাখতে পারবে না।

যাইহোক, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে তাদের শত্রুতার কোনো শেষ নেই। এ অবস্থায় যেকোনো হুমকির মোকাবেলায় নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বাড়ানোরও কোনো বিকল্প নেই।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here