সিগারেট এমন একটি নেশা, যেটি সিগারেট ধরা যতটা সহজ, ছাড়া ঠিক ততটাই কঠিন। কিন্তু আপনি মনস্থির করছেন আপনি সিগারেট ছাড়বেন। অথচ কিছুতেই পেরে উঠছেন না। তাহলে দৌড়ানো শুরু করতে পারেন, যা আপনাকে তামাক গ্রহণ থেকে দূরে রাখতে পারে।

সম্প্রতি এনিয়ে এক গবেষণা চালিয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলম্বিয়া। তাতে এরকমই ফলাফল পাওয়া গেছে। গবেষকদের করা এই গবেষণার জন্য কানাডায় অনুষ্ঠিত ‘রান টু কুইট’ নামক এক জাতীয় উদ্যোগ পর্যালোচনা করেন তারা। দলবদ্ধভাবে দৌড়ানোর মাধ্যমে ধূমপান ত্যাগ করাই ছিল উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

ফলাফলে দেখা যায়, ১০ সপ্তাহের এই দৌড়াদৌড়িতে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের ৫০.৮ শতাংশ ধূমপান ছাড়তে সফল হয়েছেন। আর ৯১ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর ধূমপানের পরিমাণ কমেছে।

প্রধান গবেষক, ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলম্বিয়ার পোস্টডক্টরাল’য়ের  শিক্ষার্থী কার্লি প্রিব বলেন, ‘আমাদের গবেষণা অনুযায়ী, শারীরিক পরিশ্রম ধূমপান ত্যাগ করার এই কার্যকর উপায় হতে পারে। এলাকাভিত্তিক এমন উদ্যেগ নেওয়া হলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ একক প্রচেস্টা এই পদ্ধতিতে লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন।’

২০১৬ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত ১০ সপ্তাহের ‘রান টু কুইট’ দৌড় অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশটির ১৬৮ জন ধূমপায়ী। এদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত লেগে ছিলেন ৭২ জন। ৩৭ জন অংশগ্রহণকারীর দাবি তারা ধূমপান ত্যাগে সফল হয়েছেন, কার্বন-মনোক্সাইড পরীক্ষার মাধ্যমে এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করা হয়েছে।

সাপ্তাহিক কার্যাবলীর মধ্যে ছিল কীভাবে দৌড়াতে হবে ও ধূমপান ছাড়ার কৌশল বিষয়ক ক্লাস এবং বাইরে হাঁটা কিংবা দৌড়ানো। লক্ষ্য হবে পাঁচ কিলোমিটার একটানা দৌড়ানো। অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নয়ন করেছে এই উদ্যোগ। পাশাপাশি তাদের শরীরে কার্বন-মনোক্সাইডের মাত্রা কমিয়েছে গড়ে এক-তৃতীয়াংশ।

প্রিব বলেন, ‘যারা ধূমপান ছাড়তে পারেন নি, তাদের ধূমপানের হার কমেছে, যা অবশ্যই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সবকথার মূল কথা শারীরিকভাবে কর্মঠ থাকা। সিংগভাগ অংশগ্রহণকারীর দৌড়ানোর অভ্যাস ছিল না। তবে একে জীবনাযাত্রার অংশে পরিণত করতে পারলে ধূমপানের ক্ষতিকর অভ্যাস কাটিয়ে স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়া যাবে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here