ফুটবলে খেলার মাঠে সামনে থেকেই দলকে নেতৃত্ব দেন বেশির ভাগ দলের অধিনায়কেরা। তবে পেছনে থেকেও যে দলকে নেতৃত্ব দেয়া যায় তার উজ্জ্বল উদাহরণ ইতালির তারকা গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। পেছনে থেকে শুধু নেতৃত্বই দেননি, দলকে একাধিকবার বিপদ থেকেও বাঁচিয়েছেন। জীবনে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইতালির জাতীয় ফুটবল দল ও ক্লাব জুভেন্টাসের। আর ২০০৬ সালে ইতালির হয়ে বিশ্বকাপ জয় করেন তিনি।

জেতেন জুভেন্টাসের হয়ে ইতালিয়ান লিগের ১০ শিরোপা। এছাড়া জুভেন্টাসের হয়ে জেতেন পাঁচবার ইতালিয়ান সুপার কাপ এবং তিনবার ইতালিয়ান কাপের শিরোপা। ২০০৩, ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠে তার ক্লাব। এবার পেলেন ফিফার বর্ষসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কারও। চল্লিশে পা দিলেও ইতিহাস গড়তে আরো উচ্চাভিলাষী তিনি। তবে চলতি মৌসুম শেষেই ক্লাব ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আশা করছেন ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ইতালির হয়ে খেলার। সম্প্রতি ফিফা ডটকম-কে বলেছেন তার ভাবনার কথা।

ফিফা ডটকম: একজন খেলোয়াড়ের পরিচিতির জন্য পুরস্কার কতটা গুরুত্বপূর্ণ? যেখানে সবসময় মাঠে একা হয়ে থাকেন একজন গোলরক্ষক?

বুফন: অবশ্যই পুরস্কার একটি বড় ধরনের কিছু। মাঠে আমাদের সবার অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ। একটি জয় বা পরাজয়ে সবাই একজন স্ট্রাইকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। খেলার মাঠে প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই ভালো কিংবা খারাপ অবস্থান বোঝা যায়। আর দর্শকেরা সহজে এটা বুঝতে পারে। গোলরক্ষকের ক্ষেত্রেও আলাদা কিছু নয়। আর গোলরক্ষকের সাফল্যও দলের জয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

ফিফা: একজন গোলরক্ষকের দায়িত্ব অনেক কঠিন। ছোটবেলা থেকে এ কঠিন দায়িত্বগুলোকে কিভাবে দেখতেন।

বুফন: ছোটবেলা থেকেই আমি কঠিন কাজ করতে ভালোবাসতাম। প্রত্যেক কাজ পছন্দ করার ক্ষেত্রে আমি প্রকৃতিকেই অনুসরণ করতাম। সবসময়ই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চেয়েছি, যা আমাকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আর গোলরক্ষক হিসেবে খেলা আমার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য।

ফিফা: আপনার ব্যক্তিগত সাফল্যকে কিভাবে দেখেন? নাকি আপনার রেকর্ডগুলোকে কখনো আমলেই নেন না।

বুফন: আমি জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে ২০ বছর খেলতে পেরে সত্যিই গর্বিত। আশা করছি ২১তম বছরেও ভালো কিছু করার। খেলার মাঠে শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে সাফল্য ধরে রাখা অবশ্যই একটি অসাধারণ গুণ। আপনি যখন আপনার ক্যারিয়ারের ইতি টানার কথা ভাববেন, তখন অবশ্যই আপনি আপনার কৃতিত্ব ও রেকর্ডগুলো নিয়ে ভাববেন। আর এর মাধ্যমে আপনি নিজেকে চিনতে পারবেন। আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়।

ফিফা: আপনার অর্জনগুলো ফুটবল ইতিহাসের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। কিভাবে দেখছেন এগুলোকে?

বুফন: আমি কখনো পেছনে তাকাতে চাই না। সম্ভবত এটিই আমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করছে। আমি সবসময় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবি। তবে বর্তমানকেই বেশি নজর দিতে পছন্দ করি। যদি অতীতকে নিয়েই বেশি ভাবতাম সেটি আমাকে কষ্টই দিতো। কারণ আমাকে গণনা করতে হতো কী করতে পেরেছি, কী করতে পারিনি। ভাবতে হতো, সময়, আমার বয়স, সতীর্থ অনেক কিছুই বদলেছে। আমি এই সব গভীর স্মৃতির মধ্যে বাস করতে চাই না। বরং আমি বর্তমান আর ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি ভাবি। আমার অর্জনগুলো আমাকে সাফল্যমণ্ডিত করে যেগুলো আমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করি।

ফিফা: রাশিয়ায় ২০১৮ বিশ্বকাপই কি বর্তমানে আপনার অগ্রাধিকারের তালিকায়? যোগ্যতা বিবেচনায় বিশ্বকাপকে কিভাবে দেখছেন?

বুফন: অবশ্যই এটি আমার এবং ইতালিয়ান ফুটবল দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবলে অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিবেচনায় আসন্ন বিশ্বকাপ খেলতেই হবে আমাদের। খেলার যোগ্যতা অর্জন করা কঠিন একটি বিষয়, তবুও সেই যোগ্যতা অবশ্যই অর্জন করতে হবে আমাদের।

ফিফা: বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিতে সুইডেনের বাধা পেরুতে হবে ইতালিকে। সেই ম্যাচকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

বুফন: সুইডেন কঠিন এক প্রতিপক্ষ। তারা উচ্চমানের খেলা খেলে এবং প্রতিপক্ষকে কোনো ধরনের ছাড় দেয় না। সর্বোত্তম প্রচেষ্টা দিয়েই আমাদের জিততে হবে, নয়তো হারতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের খেলাটি কেমন হয় সেটি দেখতে আগ্রহী আমি। তাদের প্রতি শুভকামনা।

ফিফা: অনেকেই আপনাকে সর্বকালের সেরা গোলরক্ষক বলে মনে করে। নিজেও কি তাই ভাবেন?

বুফন: এটি শুনতে বেশ ভালো লাগে। কিন্তু আমি এমন কেউ নই যে, নিজেকে সমর্থন করতে পারি এবং এজন্য উদযাপনও করতে পারি। যে কেউ যে কাউকে সেরা ভাবতে পারে। কারো চোখে আমি সেরা হতে পারি আবার কারো চোখে অন্য কেউ। আমার ক্ষেত্রেও এটি ব্যতিক্রম কিছু নয়। আমার ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান হয়তো অনেক কিছু বলে। তবে এ পর্যায়ে সত্যটাই সত্য, কথায় কিছু আসে যায় না।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here