বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরতের ব্যাপারে বাংলাদেশ কালক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ করেছে মিয়ানমার। তাদের অভিযোগ রোহিঙ্গাদের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা পাওয়ার জন্যই বাংলাদেশ এ অবস্থান নিয়েছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার কার্যালয় সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক জ হতেয় মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন।

তিনি জানিয়েছে, মিয়ানমার যে কোনো সময় রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে প্রস্তুত আছে। নব্বইয়ের দশকে যেভাবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া হয়েছিল সে চুক্তি মোতাবেকই তারা কাজ শুরু করতে চান। কিন্তু বাংলাদেশ তাদের এ আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত এক সংবাদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শরণার্থীদের জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে। এই অর্থ পাওয়ায় আমরা এখন প্রত্যাবাসন কর্মসূচি বিলম্বিত হওয়ার শঙ্কায় আছি। তারা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো নিয়ে অন্য চিন্তা করতে পারে।’

মিয়ানমার সরকার বলছে, মিয়ানমারের অধিবাসী হিসেবে সঠিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া হবে। আর জ হতেয় বলেছেন, মিয়ানমার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেখানে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের একটি তালিকার অপেক্ষায় আছে।

রাখাইনের মংডুর নিকটবর্তী একটি গ্রাম আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার পর তোলা ছবি (রয়টার্স)

জাতিগত সহিংসতা থেকে বাঁচতে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার থেকে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। গত আগস্টের শেষের দিকে রাখাইন প্রদেশে নিরাপত্তাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার অজুহাতে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু হয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন নিয়ে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে নতুন করে বাংলাদেশকে অভিযুক্ত করার প্রচেষ্টাকে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন বহুল প্রচারিত বাংলা  দৈনিক নয়াদিগন্ত-এর নির্বাহী সম্পাদক মাসুদ মজুমদার। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, আন্তর্জাতিক মহল থেকে সাহায্য পাবার জন্য যদি বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে গড়িমসি করে তবে মিয়ানমার কেন এদের ফেরত নিয়ে সে তহবিলের সুযোগ নিচ্ছে  না?

এদিকে, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে ইউরোপীয় কমিশনের মানবিক সাহায্য ও সমস্যা সমাধান বিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টোস স্টাইলিয়ানিডেস দুই দিনের সফরে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন।

জেনেভায় অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মোট ৩৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের তহবিল উত্থাপনে ইইউ এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো পাঁচ শতাংশ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়ার এক সপ্তাহ পর তিনি এ সফরে আসেন। ইউরোপীয় কমশিনের এ প্রতিনিধি স্টাইলিয়ানিডেস কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন করবেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here