‘আমরা সংঘাত চাই না,সমঝোতা চাই’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংঘাতের উস্কানি দিয়ে, সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি হয় না। ফেনীর সাজানো হামলার ঘটনা সংঘাতের উস্কানি। সংঘাতের উস্কানি দিয়ে সমঝোতা হবে না।

বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি আয়োজিত ‘নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের ১১ দফা, জনগণের প্রস্তাব’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব, আপনাদের মুখের সংলাপের কথা ও মনের কথার   যোজন যোজন দূরত্ব। আপনারা যখন সমঝোতার কথা বলেন তখন আমাদের ভাবতে হয়, এটা কি আপনাদের মনের কথা, নাকি মুখের কথা।’

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে একটি কাজের সমঝোতা আমরা চেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী গণভবনে বেগম জিয়াকে ডেকেছিলেন। এরপরও আপনার ছেলের মৃত্যুর পর (খালেদা জিয়া ছেলে আরাফাত রহমান কোকো) সমবেদনা জানতে আপনার বাড়িতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিন আপনারা যে আচরণ করেছেন… যারা করে তারাতো সমঝোতায় বিশ্বাস করে না। এ দরজা কী করে খুলবো তা আপনারা ভাবুন।’

নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাদের কাছে আমরা কিছু চাই না। আমাদের ১১ দফায় আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি- স্বাধীন কর্তৃত্বপূর্ণ নির্বাচনের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবো। তাদের কোনও দলের পক্ষ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির পক্ষ কেন নেবে?’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কোনও দলীয় বক্তব্য নিয়ে রাজনীতি চর্চা করে, নিজেদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করুক, তা আমরা চাই না। কিন্তু বিএনপি এমন একটি নির্বাচন কমিশন চায়, যেন তারা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় আসতে পারে।’

এসময় তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার হন্তারকদের পুরস্কৃত ও পুনর্বাসন করে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন? শত শত সেনাবাহিনীর অফিসার, জোয়ানদের হত্যা করে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেন? বাংলাদেশের উচ্চ আদালত যাকে বলেছে- অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক? এমনকি প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, সেখানেও তাকে (জিয়াউর রহমান) অবৈধ ক্ষমতা দখলদার বলেছেন। এমন হাস্যকর দাবিতো বিএনপি করেছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলার আসল খবর বের হয়েছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘থলের বিড়াল অবশেষে মিঁউ ডেকেছে। গাড়ি পোড়ানো তো বিএনপির পুরনো অভ্যাস। এটা আওয়ামী লীগের ট্র্যাক রেকর্ডে নেই। পরিকল্পিতভাবে রং সাইডে বাস রাখা হয়েছিল এবং পরিকল্পিতভাবে হামলার নাটক করেছে। তা পুলিশের রিপোর্টেই এসেছে।’

এ ঘটনায় দুই-একটি পত্রিকার রিপোর্টের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পত্রিকা আমাদের বিরুদ্ধে নেমেছে। তারা বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে আদাজল খেয়ে নেমেছে। ঠিক আছে, তারা তা করতেই পারে। তারা কোনও দলকে সমর্থন করতেই পারে। কিন্তু রাতকে দিন, দিনকে রাত কিংবা তিলকে তাল বানানো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নয়। ফেনীর ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপানো হয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা চাই, বিএনপি নির্বাচনে আসুক। নির্বাচনের মাধ্যমে তারা যে জনপ্রিয়তার দাবি করতে চাচ্ছে, তা যাচাই করুক।’

কাদের বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি পরের নির্বাচনের জন্য, পরবর্তী জেনারেশনের জন্য নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ পরবর্তী জেনারেশনের জন্য রাজনীতি করে।’

নির্বাচন কমিশনে সংলাপে অংশ নিয়ে বিএনপি ‘মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন যে, তারা আশাবাদী কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই তারা বলছে যে, এটা সাজানো সংলাপ। আসলে তারা কী বলতে চান, তা স্পষ্ট নয়’ বলেন কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা যে প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছি, তা জনস্বার্থে আর বিএনপি যা দিয়েছে, তা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বার্থে।’

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য সচিব ড. হাছান মাহমুদ।

সূচনা বক্তব্যে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশের সেনাবাহিনী আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেউ কেউ এক করে ফেলছেন। এটা ঠিক না। কারণ, সেনাবাহিনী প্রতিরক্ষার কাজ করে। আর পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করে। সুতরাং এসব গুলিয়ে ফেললে হবে না। দেশের সেনাবাহিনীকে দিয়ে পুলিশ-আনসারের কাজ করানো হবে, তাদের জন্য অসম্মানজনক। আমরা যে প্রস্তাব করেছি- তা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য।’

সেমিনারে আরও  বক্তব্য  রাখেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, নিরপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল অব. একে মোহাম্মদ আলী শিকদার, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজরুল আহসান বুলবুল, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দলের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবীর কাওছার প্রমুখ।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here