সমবায়ের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৮ লাখ ২৬ হাজার ৭২৮ জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

শনিবার  রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৪৬তম জাতীয় সমবায় দিবস ও জাতীয় সমবায় পুরস্কার-২০১৫ বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১০ টি শাখায় জাতীয় সমবায় পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব বেগম মাফরূহা সুলতানা। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ বক্তব্য দেন

মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমবায়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি সংবিধানে সমবায়কে মালিকানার দ্বিতীয় খাত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন,  সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ছিন্নমূল মানুষদের সমবায়ের ভিত্তিতে সংগঠিত করে গৃহ ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৯৩ হাজার ১১৫ টি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রায় ১০৩ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা প্রদান করে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন,গ্রামে দারিদ্র্য নির্মুলে সমবায় দর্শনকে ভিত্তি করেই ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে । এ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজার ১৪৫টি সংগঠন সৃষ্টি করে হতদরিদ্র মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সব সংগঠনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা মূলধন সৃষ্টি হয়েছে।

সমবায়ীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে আপনাদের ভূমিকার বিকল্প নেই। সমবায়ের মত শক্তিশালী সামাজিক শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে অনাচার ও কলুষমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি বিশেষ মহল সক্রিয় রয়েছে ।জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নানা কুটকৌশলের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে।  এ ব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান ।

এর আগে আজ সকালে তিনি মৎস্য ভবন মোড় থেকে সমবায়ীদের নিয়ে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালীর নেতৃত্ব দেন। র‌্যালীটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here