বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত আছে। সবশেষ কক্সবাজারের উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া প্রায় চার হাজার রোহিঙ্গাকে কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), ইউএনএইচসিআর ও রেড ক্রিসেন্টের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকালে দুই দফায় তাদের ক্যাম্পে নেয়া হয়। এখনো নাফ নদীর ওপারে অপেক্ষা করছে শিশুসহ ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ।

এদিকে, বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশ সফর করেছেন স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। দেশটির সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের দমনপীড়ন শুরুর দুই মাসের অধিক সময় পর, রাখাইন সফর করলেন সমালোচনা মুখে থাকা এ নেত্রী। সফরকালে রাখাইনের ক্ষতিগ্রস্ত মংডু এলাকায় গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সুচি তাদের বলেন, সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে হবে, সরকার তাদের সহায়তা করবে এবং তারা যেন নিজেদের মধ্যে ঝাগড়া-বিবাদে না জড়ান।

তবে, তার এ কথায় বিশ্বাস রাখতে পারছেন না বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। মংডুর হাড়িভাঙ্গা থেকে পালিয়ে আসা মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, সু চি’র আরও আগেই আসা উচিত ছিল। এমন সময় তিনি সফর করলেন, যখন পুরো রাখাইন মানুষশূন্য। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা, গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া, অন্যদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখন কিভাবে কি হবে? ফিরে গেলে আবারও হত্যা নির্যাতনের শিকার হবে না মুসলমানরা, তার নিশ্চয়তা কি তিনি দিবেন? রোহিঙ্গারা তাকে বিশ্বাস করে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু তিনি বিশ্বাস রাখেননি। সেনাবাহিনীর নির্যাতনে ভিটেমাটি সব ছেড়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে তাদের।

এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জমিরউদ্দিন বলেন, এতসব অত্যাচার নির্যাতনের পর আর সু চিকে রোহিঙ্গারা বিশ্বাস করে না। আর কী সহযোগিতা করবে সরকার। সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন থেমে নেই। সরকার নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে, জোর করে রোহিঙ্গাদের বিদেশি হিসেবে মিয়ানমারের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে বাধ্য করছে। এ অবস্থায় তার বক্তব্য কতটুকু বিশ্বাস করা যায়।

এদিকে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সহকারী হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক রাখাইনে রোহিঙ্গাদের কাছে অবাধে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে নিজ জন্মভূমিতে প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানান তিনি। এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া দুইদিনের মিয়ানমার সফরে এমন আহ্বান জানান এ জাতিসংঘ কর্মকতা।

অন্যদিকে, অব্যাহত রোহিঙ্গা গণহত্যা ও নির্যাতনের মধ্যে মিয়ানমার সফরে যাচ্ছেন আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। ১৫ নভেম্বর তিনি নেপিডো সফরে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। এছাড়া দেশটির রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক দলের সিনিয়র আইনপ্রণেতারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তারা সিনেটে এ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করেন।

এছাড়া ঢাকায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) ৬৩তম সম্মেলনে আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের বর্তমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ও এ নিয়ে সৃষ্ট সঙ্কট অবহিত করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী তাদের এ ব্রিফ করবেন। শুক্রবার সিপিএ নির্বাহী কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ কথা জানান।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here