আর দেখা যাবে না অসাধারণ দূর্দান্ত ফ্রি কিক। দেখা যাবেনা মিডফিল্ডে ক্যারিশমা। সব ধরনের ফুটবলকে যে বিদায় বলে দিয়েছেন ইতালিয়ান কিংবদন্তী মিডফিল্ডার আন্দ্রয়া পিরলো। নিউ ইয়র্ক সিটির হয়ে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন বিশ্বকাপ জয় এই ফুটবলার। বর্ণঢ্য কারিয়ারে জিতেছেন বিশ্বকাপসহ চ্যাম্পিয়নস লিগ, ঘরোয়া লিগ আর ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ।

জাতীয় দলে আর্কিটেক আর ইয়ুভেন্তাসে ডাকা হতো প্রফেসর নামে। নাম দুইটির মাঝেই লুকিয়ে আছে আন্দ্রেয়া পিরলোর মাহাত্য। নামের পাশে শয়ে-শয়ে গোল নেই আধুনিক ফুটবলারের মত আগ্রাসীভাব নেই তারপরও পিরলোকে বিশ্বসেরা মিডফিল্ডারের তালিকায় রাখতে কুন্ঠবোধ করবেন না কেউ।

২২ বছরে ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত সাফল্যকে তুচ্ছ করে ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের জন্য খেলেছেন মিডফিল্ড লেজেন্ড। শুরুটা ১৯৯৫ সালে ব্রেরিসিয়ার হয়ে। ৬ বছরের উত্থান পতনের পর ইতালিয়ান জায়ান্ট মিলানে যোগ দেন। সেখান থেকেই ফুটবলের মায়েস্টো হয়ে ওঠা।

পরপর দুই চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের সাথে মিলানের হয়ে জিতেছেন একাধিক সুপার কাপ, ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ। সেখানেই থামেননি ৩০ পার করেও ইভেন্তাসকে জিতিয়েছেন চারটা লিগ শিরোপার সাথে কোপা ইতালিয়ান একটা সুপার কোপা দুটা।

হয়তো মারাদোনা, পেলে, জিদান,ইউসুবিও, বেকেনবাওয়ারের মত তার নাম নেয়ে হবে না। তবে গ্রাটদের কাতারে নাম তুলতে যে শর্ত বিশ্বকাপ জয়, সেটা করেছেন পিরলো, ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকাতো তারই। ফাইনালে ম্যাচ সেরা, বিশ্বকাপে সেরা অ্যাসিস্টের তালিকায় সবার উপরেও ছিলেন পিরলো। হয়তো গোলের সংখ্যা কম বলেও তিনবার ফিফা বর্ষসেরা তিনে থাকতে হয়েছে। বারবার স্ট্রাইকারদের হাতেই উঠেছেন বর্ষসেরা ট্রফি।

সবমিলিয়ে খেলেছেন ৯৪৯ ম্যাচে। করেছেন ১১১। যে মানুষের কাছে দল আর দলের সাফল্যে বড় তাকে কি আর গোল-অ্যাসিস্ট-বর্ষসেরা-ট্রফির সংখ্যায় মূল্যয়ন করা যায়। না যায় না। যেমনটা যায়নি বিশ্বের অনেক লেজেন্ডকেও।

তাইতো ফুটবলে যত পরিবর্তন আসুক জন্ম নিক আরও রোনালদো, মেসি, নেইমারের মত ফুটবলার। তারপরেও পিরলোর নাম শত বছর লেখা থাকবে ফুটবল ইতিহাসে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here