বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ষষ্ঠ ম্যাচে ড্যারেন স্যামির রাজশাহী কিংসকে ৩৩ রানে হারিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক করল সিলেট সিক্সার্স। আজ দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৫ রান সংগ্রহ করে সিলেট। জবাবে ৮ উইকেট ১৭২ রান তুলেছে মুশফিক-মুমিনুলরা।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা বাদে সবাইকে হারতে হয়েছে। মঙ্গলবার সিলেট টস হারার পর চায়ের দেশে তাই চিন্তার মেঘ ভর করেছিল। কিন্তু কোথায় কী? শিশিরের প্রভাব উপেক্ষা করে রাজশাহী কিংসকে ৩৩ রানে হারিয়ে উপচে পড়া গ্যালারিকে আরেকটি জয়ের আনন্দে ভাসায় দলটি। রাজশাহীর এটি টানা দ্বিতীয় হার।

সিলেট ২০৫ রানের সংগ্রহ পায় উপুল থারাঙ্গা এবং ফ্লেচারের ১০১ রানের জুটিতে। এই আসরে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্কোর।

আগে বিপিএলে দুইশর উপর আরও আটটি সংগ্রহ দেখা গেছে। যার সর্বোচ্চটি ঢাকার, ২১৭/৪; রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ২০১৩ সালে। তখন অবশ্য দলটির নাম ছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স

এদিন ১১তম ওভারে ফ্লেচারকে ফেরাতে সক্ষম হয় রাজশাহী। তাও রানআউটে। মিরাজের থ্র থেকে ব্রেকথ্রু আনেন মুশফিক। ৩০ বলে পাঁচ চার তিন ছক্কায় ৪৮ রান করে যান ফ্লেচার। ৩৭ বলে ৫০ করে তবেই বিদায় নেন থারাঙ্গা। অর্ধশতকের ইনিংসে পাঁচটি চার একটি ছয় ছিল তার।

সিলেটের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর রানের গতি কিছুটা কমে যায়। সাব্বির এবং গুনাথিলাকা সিঙ্গেল নিয়ে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন। সাব্বির ১৪ বলে ১৬ করে ফিরলেও গুনাথিলাকা রান বাড়িয়ে নেন। ২২ বলে ৪২ করে যান তিনি। এরপর শুরু করেন হুইটলি। ১২ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থেকে দলের স্কোর ২০০ পার করেন।

জবাব দিতে নেমে মুমিনুল হক এবং লুক রাইট ৫ ওভারে ৫০ তুলে রাজশাহীকে পথে রাখেন। প্লাঙ্কেটকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে যেয়ে নাসিরের হাতে ধরা পড়েন মুমিনুল। এক চার দুই ছয়ে ১৬ বলে ২৪ করে যান। এরপর রনি তালুকদার (০) এবং মুশফিক (১১) দ্রুত ফিরলে বিপদ বাড়ে রাজশাহীর। আশা বাঁচিয়ে রাখেন ৩৬ বলে অর্ধশতকে পৌঁছানো ওই রাইট।

১৫তম ওভারে রাব্বির বলে লংঅনে বেঁচে যান রাইট। আকাশ থেকে নেমে আসা বল বাউন্ডারি লাইনে নাসিরের হাত ফসকে ছয় হয়ে যায়। এক বল বাদে ফের বড় শট খেলতে যেয়ে ধরা পড়েন তিনি। এবার আটকে যান প্লাঙ্কেটের হাতে।

২২ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন আবুল হাসান। সমান সংখ্যক উইকেট নিতে প্লাঙ্কেটের খরচ ২৯। নাসির ৩৩ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।

এমন বোলিংয়ের সামনে শেষ দিকে নিউ জিল্যান্ডের জেমস ফ্রাঙ্কলিন চেষ্টা চালান। ২৩ বলে ৩৫ করার পর ড্যারেন স্যামির ভুল কলে রানআউট হন। স্টাম্পের দরজায় বল রেখে রানআউটের ডাক দেন রাজশাহী কাপ্তান। বোলার প্লাঙ্কেট রানআপের গতি না থামিয়ে পা দিয়ে স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে দেন। ধীরে ধীরে ভেঙে যায় রাজশাহীর প্রথম জয়ের স্বপ্নও!

সংক্ষিপ্ত স্কোর

সিলেট সিক্সার্স: ২০ ওভারে ২০৫/৬ (উপুল থারাঙ্গা ৫০, আন্দ্রে ফ্লেচার ৪৮, সাব্বির রহমান ১৬, দানুস্কা গুনাতিলকা ৪২, রস হুইটলি ২৫*, লিয়াম প্লাঙ্কেট ৫, নুরুল হাসান সোহান ০, আবুল হোসেন ৫*; জেমস ফ্র্যাঙ্কলিন ১/৩৮, ফরহাদ রেজা ১/৪১, কেসরিক উইলিয়ামস ২/৩৯)।

রাজশাহী কিংস: ২০ ওভারে ১৭২/৮ (মুমিনুল ২৪, রাইট ৫৬, রনি ০, মুশফিক ১১, সামিত ০, ফ্রাঙ্কলিন ৩৫, স্যামি ৯, ফরহাদ ১৫*, মিরাজ ৮, উইলিয়ামস ১*; নাসির ০/৩৩, কামরুল ১/৫৪, তাইজুল ০/৩১, আবুল হাসান ৩/২২, প্লাঙ্কেট ৩/২৯)।

ফল: সিলেট সিক্সার্স ৩৩ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা: দানুশকা গুনাথিলাকা।

পয়েন্ট টেবিল

১. সিলেট (তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট)

২. ঢাকা (দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট)

৩. রংপুর (এক ম্যাচে ২ পয়েন্ট)

৪. কুমিল্লা (দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট)

৫. রাজশাহী (দুই ম্যাচে ০ পয়েন্ট)

৬. চিটাগাং (১ ম্যাচে ০ পয়েন্ট)

৭. খুলনা (১ ম্যাচে ০ পয়েন্ট)

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here