সরকারের প্রভাব মুক্ত থেকে সাহস ও সততার সঙ্গে আইন অনুযায়ী ন্যায় বিচার করতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশিবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে তার বিরুদ্ধে আনীত দুটি মামলার শুনানিতে উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে এসব কথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, আপনি সাহস ও সততার সঙ্গে সরকারের প্রভাব মুক্ত থেকে আইন অনুযায়ী ন্যায় বিচার করবেন। আমাদের বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হলেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদাহরণ সেই দাবিকে প্রতিনিয়ত প্রতারিত করছে।’

এর আগে সকাল পৌনে ১১ টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হন। এসময় বিএনপির বিপুল নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে রয়েছেন।

বুধবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এ তথ্য জানিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হবেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় আরো একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

জিয়া অরফানেজ মামলায় খালেদার আদালত পরিবর্তনের আবেদন খারিজ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আদালত পরিবর্তনের আবেদন আবারো খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্টের আপিল বিভাগ।

৬ নভেম্বর (সোমবার) ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এই মামলা বর্তমানে বিশেষ জজ আদালত-৫–এ বিচারাধীন আছে। ইতিমধ্যে এই মামলায় খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে মোট চার দিন বক্তব্য দিয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবার আত্মপক্ষ সমর্থনের পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে।

সোমবার আদালতে শুনানিতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খোরশেদ আলম খান, খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন এ জে মোহাম্মদ আলী। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জমিন দিয়েছে হাইকোর্ট। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন।

বুধবার বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ভূইয়া।

দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, এ মামলায় ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া জামিন দিয়ে রুল জারি করেন। কিন্তু দুদককে তখন পক্ষভূক্ত করা হয়নি। সম্প্রতি পক্ষভূক্ত হতে দুদক আবেদন করার পর হাইকোর্ট তা মঞ্জুর করে।

পরে এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল মঞ্জুর করেন আদালত। অর্থাৎ এ মামলায় খালেদা জিয়া স্থায়ী জামিন পেয়েছেন। তবে জামিনের অপব্যবহার করলে বিচারিক আদালত তার জামিন বাতিল করতে পারবে।

দুদকের আইনজীবী খোরশেদ আলম জানিছেন, হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করেননি আপিল বিভাগ। ফলে নিম্ন আদালতে এ মামলার কার্যক্রম চলতে কোনো বাধা নেই।

খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী বদরুদ্দোজা বাদল জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পর আমরা নিয়মিত আপিল আবেদন করব।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী (পলাতক) ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান (পলাতক)।

২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here