ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক ইস্যুর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার কোনো সম্পর্ক নেই। কাজেই এসব ইস্যুর কারণে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে তেহরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা নিয়ে আবার আলোচনা শুরু করার কোনো সুযোগ নেই।

আমেরিকা সফর শেষে বুধবার ব্রাসেলসে ফিরে এসব কথা বলেছেন ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি। তিনি বলেন, আমেরিকার হুমকি সত্ত্বেও এই সমঝোতা বাস্তবায়ন করতে হবে।

মোগেরিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে বর্তমানে যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে তা নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করা যেতে পারে; কিন্তু পরমাণু সমঝোতা যেভাবে আছে সেভাবে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, পরমাণু সমঝোতার ভিত্তিতে ইরান এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’কে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে এসেছে। কাজেই যতক্ষণ ইরান সহযোগিতা করছে ততক্ষণ এই সমঝোতা বাস্তবায়ন না করার কোনো কারণ নেই।

এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সম্প্রতি বলেছিলেন, অপারমাণবিক বিষয়কে ইরানের পরমাণু সমঝোতার অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা হবে মারাত্মক ভুল।

এ ছাড়া, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ সম্প্রতি বলেন, বর্তমান পরমাণু সমঝোতার চেয়ে ভালো চুক্তি সম্ভব বলে মার্কিন সরকার যে কথা বলছে তা অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি বলেন, ইরান যেমন পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে তেমনি আমেরিকার উচিত বিশ্ব জনমতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বাদ দিয়ে এই সমঝোতা মেনে চলা।

পরমাণু সমঝোতা শুধুমাত্র ইরানের স্বার্থ রক্ষা করছে- এই অজুহাত তুলে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সরকার এই সমঝোতার কিছু ধারায় পরিবর্তন আনা কিংবা সম্ভব হলে পুরো সমঝোতাটি বাতিল করে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। এ লক্ষ্যে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মতো অপারমাণবিক বিষয়কে এই সমঝোতার অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকাসহ ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতাকে একটি ‘ভয়ঙ্কর চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে এটি বাতিল করার দাবি  জানিয়েছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমাজ তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here