নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খুব ভাল একটা সিরিজ খেলল ভারত। গত দেড় বছরে যত ঘরের মাঠে সিরিজ হয়েছে তার চেয়ে অনেক আলাদা এই সিরিজ। শেষ পর্যন্ত ভারত সিরিজ জিতলেও নিউজিল্যান্ড যে ভাবে খেলেছে ওদেরও কিন্তু কৃতিত্ব দিতে হবে। সম্প্রতি ভারত সফরে আসা দলগুলোর মধ্যে এই নিউজিল্যান্ড দলকে এগিয়ে রাখব। আমি সব সময়ই বলেছি, ভারতে খেলতে আসলে সেই দলকে স্পিন বোলিং যে রকম সামলাতে জানতে হবে, সে রকমই ভাল স্পিন বোলিংও করতে হবে। এই দুটো জায়গাতেই নিউজিল্যান্ড কৃতিত্ব দেখিয়েছে, তাই ওদের এগিয়ে রাখছি।

টম লাথাম, কলিন মুনরো, রস টেলর, ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি এবং মিচ স্যান্টনার দারুণ পারফর্ম করেছে। ওদের মিডল অর্ডারও ভারতের স্পিন বোলিং ভাল সামলেছে। এই পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ড নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট। তবে আমি কেন উইলিয়ামসনের জায়গায় থাকলে সিরিজটা না জেতার জন্য হতাশ হতাম। ২৪ বলে ৩৫ রান এবং আট ওভারে ৬৮ রান করতে হতো, এই দুটো লক্ষ্য যদি অর্জন করতে পারত, তা হলে নিউজিল্যান্ডই সিরিজে চালকের আসনে থাকত। আমি গ্যারান্টি দিতে পারি, ভারত একই রকম পরিস্থিতির সামনে পড়লে হারত না।

ভারতেরও কিন্তু এই ছ’টা ম্যাচে প্রাপ্তি কম নয়। আমরা সবাই বিদেশের মাঠে ভাল পারফর্ম করার কথা বলি, কিন্তু যে পরিস্থিতিতে জয়গুলো এসেছে তাতে তৃপ্তিটা আরও বেড়ে গিয়েছে। কানপুর আর তিরুঅনন্তপুরমে দুটো পরিস্থিতিতেই হোম টিম মানে ভারত ফিল্ডিং করছিল। তাই আমার কাছে এই জয়গুলো শুধু জেতা নয়, ঘরের মাঠে হোম টিমের কাছে জয় তো আশা করেই সবাই, তবে যে রকম চাপের মুখে ভারত পরিস্থিতি সামলেছে সেটা দুরন্ত

বিরাট কোহালি, যশপ্রীত বুমরা এবং ভুবনেশ্বর কুমার অসাধারণ খেলেছে। ভারতকে আরও ভরসা রাখতে হবে যুজবেন্দ্র চহালের উপর, কারণ আমার মনে হয় ও বিদেশের মাঠেও ভাল পারফর্ম করবে। মিডল অর্ডারে বিরাটের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপারটা আমি বুঝতে পেরেছি। কারণ এই সময়ে এটা না করলে পরে আর সময় পাওয়া যাবে না। ও যে ক্রিকেটারদের পরীক্ষা করল তার মধ্যে কে এল রাহুলকেই সেরা মনে হল। দল থেকে বাদ পড়েছিল ও। সেটা মনে হয়, অন্যদের জায়গা করে দেওয়ার জন্য। তবে এ বার ও দলে ফিরে আসার জোর দাবি জানিয়ে রেখেছিল। বিদেশে রাহুলের পারফরম্যান্স কিন্তু বেশ ভাল। তা সে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা হোক বা আমেরিকা। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে চার নম্বরে নেমে ওর দুরন্ত সেঞ্চুরি রয়েছে। এখন তাই হয়তো সময় হয়েছে ওকে দলে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভাবার।

পাশাপাশি ভারতকে পেস বিভাগে ভুবি আর বুমরা ছাড়া বিকল্প নিয়ে ভাবতে হবে। ক্রিকেটের এ রকম ঠাসা সূচির জন্য উমেশ যাদব, মহম্মদ শামি, শার্দুল ঠাকুরকে তৈরি রাখাটা খুব জরুরি। তার সেরা সুযোগ হয়তো শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজই।

 

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here