টি-টোয়েন্টি দূরে থাক, ওয়ানডেতেও উপেক্ষিত মুমিনুল হক! দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সীমিত ওভারের দলে থাকলেও খেলা হয়নি তার। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে শুধুই টেস্ট পরিকল্পনা বাংলাদেশের। অথচ টি-টোয়েন্টিতেও যে তিনি কতটা কার্যকর, সেটা গতবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেই (বিপিএল) প্রমাণ দিয়েছিলেন তিনি। দিলেন আরেকবার। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়েই উড়ে গেল রংপুর রাইডার্স। ওপেনিংয়ে নেমে তিনি করলেন অপরাজিত ৬৩ রান। যাতে রাজশাহী কিংস ৮ উইকেটে হারিয়েছে মাশরাফির রংপুরকে।

রাজশাহী ব্যাটে-বলে দারুণ পারফরম্যান্স করলেও এ ম্যাচে সকল আলো নিজের কাছে কেড়ে নেন মুমিনুল হক। ২২ গজের ক্রিজে নিজের নান্দনিক ব্যাটিংয়ে মাঠ মাতিয়ে রাখেন ‘টেস্ট স্পেশালিস্ট’ খেতাব পাওয়া মুমিনুল। মাশরাফি, মালিঙ্গা থেকে শুরু করে পেরেরা কিংবা বোপারা; প্রতিটি বোলারকেই শাসন করেছেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান।

মুমিনুলের আগে আট ক্রিকেটার এবারের বিপিএলে হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ পান। প্রতিটি ক্রিকেটারই ছিলেন বিদেশি। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে আজ মুমিনুল হাফ সেঞ্চুরির খাতা খুলেন। শুধু মুমিনুল না প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে মুমিনুলের সতীর্থ লেন্ডল সিমন্সও পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ। তাদের ১২২ রানের ‍উদ্বোধনী জুটিতে জয় পেতে বেগ পেতে হয়নি মুশফিকের দলকে।

সিমন্সের ৫০ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৫৩ রানের ইনিংস রান আউটে কাটা পড়ে। এক চার মেরে সাজঘরে ফিরেন ম্যালকম ওয়ালার। তবে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন মুমিনুল। ৪৪ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৩ রানের ইনিংসটি সাজান। তার সঙ্গে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন রনি তালুকদার। বড় ইনিংস খেলতে ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছিলেন মুমিনুল। ১ রানে মাশরাফির বলে মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু বল তালুবন্দি করেও ধরে রাখতে পারেননি নাজমুল ইসলাম অপু।

এর আগে রবি বোপারার ৩ চার ২ ছক্কায় সাজানো ৫৪ রানের ইনিংসে ১৩৪ রানের স্বল্প পুঁজি পায় রংপুর। ইংলিশ এ ক্রিকেটার বাদে রংপুরের কোনো ব্যাটসম্যানই রান পাননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন শাহরিয়ার নাফিস। ১৮ রান আসে মোহাম্মদ মিথুনের ব্যাট থেকে।

২৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে রাজশাহীর সেরা বোলার ফরহাদ রেজা। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান, কেসরিক উইলিয়ামস ও জেমস ফ্রাঙ্কলিন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here