দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম নয় সেনাবাহিনী মোতায়েন দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ৭ নভেম্বর উপলক্ষে রবিবার রাজাধানীর সোহরাওয়াদী উদ্যানে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন।

এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, সমাবেশে বাধা দিয়ে ছোট মনের পরিচয় দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা।

খালেদা জিয়া বলেন, সরকার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুম ও হত্যা করছে। তাদের ওপর নানা রকম জুলুম করছে। তারা দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের অধিকারও ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন নির্দলীয় সরকার।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে বলেছেন, বিদেশে সরকারের এজেন্সির লোক পাঠিয়ে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। এ কারণে তিনি দেশে আসতে পারেননি। এর আগে তাকে অসুস্থ বানিয়ে জোর করে বিদেশে পাঠানো হয়।

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের মত ও পথের পার্থক্য থাকবে। কিন্তু দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এক হতে হবে।

বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘আমরা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি, আসুন। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বহু মত ও পথের পার্থক্য থাকবে, কিন্তু দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এক হতে হবে। এই কাজ করলেই জনগণের কল্যাণ, দেশের উন্নতি করা সম্ভব।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে ঘরে ঘরে মানুষের কান্না আর আহাজারি। মানুষ আজকে অত্যাচারিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত। তাই এদের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়। মানুষ পরিবর্তন চায়। মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন আমরা বলি আসতে হবে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, ভোটের মধ্য দিয়ে আসতে হবে। এই জন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য প্রয়োজন একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন।’

রবিবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি জনসভাস্থলে প্রবেশ করেন। এসময় নেতাকর্মীরা তাকে বিভিন্ন ধরনের স্লোগানে-স্লোগানে স্বাগত জানান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে আকস্মিকভাবে রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলো থেকে বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীসহ সমাবেশে আসা অনেকেই।

বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদের সমাবেশে জনসমাগম ঠেকাতে পুলিশসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বাস চলতে দিচ্ছে না।

পুলিশ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পরিবহন শ্রমিকদের দায়ী করেছে আর পরিবহন শ্রমিকরা দুষছেন মালিকদের।

এর আগে, জনসভায় যোগদানের জন্য সকাল থেকে ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থান নেন। দুপুর পৌনে ২টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here