আবু জায়েদ রাহির দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয় পেল খুলনা টাইটান্স। রবিবার বিপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসকে ১৮ রানে হারালো তারা। রাহি নিয়েছেন চারটি উইকেট। এর আগের ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সকে ছয় উইকেটে হারিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। তিন ম্যাচ খেলে খুলনা টাইটান্সের এটি দ্বিতীয় জয়। অন্যদিকে, তিন ম্যাচ খেলে চিটাগং ভাইকিংসের এটি দ্বিতীয় হার।

খেলতে নেমে শুরু থেকেই খুলনার বোলিং আক্রমণে উইকেট হারাতে থাকে চিটাগং।  প্রথম ওভারে আবু জায়েদ রাহির বলে ফেরেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও লুক রনকি।  এরপর দিলশান মুনাবিরা ও এনামুল হক বিজয় দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে এই জুটিও ভাঙেন আবু জায়েদ। ততক্ষণে স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২১।

এরপর  বিজয়ও থিতু হতে পারেননি।  ব্র্যাথওয়েটের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৮ রানে।  ধুঁকতে থাকা চিটাগংকে আশার আলো দেখাতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক মিসবাহ ও সিকান্দার রাজা।  এক পর্যায়ে এই জুটিতে ভর করেই শত রানের কাছে ছিল চিটাগং।  কিন্তু ৩৭ রানে ব্যাট করতে থাকা সিকান্দার রাজাকে একেবারে বোল্ড করে বিদায় করেন পেসার শফিউল।  এরপর সঙ্গী ছাড়া মিসবাহ উল হকও টিকতে পারেননি।  নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে বিদায় করেন আবু জায়েদ রাহী।

লুইস রিস কিছুক্ষণ মেরে খেলার চেষ্টা করেছিলেন শেষ দিকে। ১৭ বলে তুলেছিলেন ২২ রান। কিন্তু হুমকি হয়ে ওঠার আগেই তাকে বোল্ড করে বিদায় দেন আর্চার।  শেষ দিকে তানভীর হায়দার ১৪ রানে ও সানজামুল ইসলাম ৫ রানে অপরাজিত থাকলে ৭  উইকেটে ১৫২ রানে থামে চিটাগংয়ের ইনিংস।

খুলনার পক্ষে ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে একাই ৪ উইকেট নেন আবু জায়েদ।  একটি করে উইকেট নেন আর্চার, ব্র্যাথওয়েট ও শফিউল ইসলাম।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল খুলনা টাইটানস। শুরুটা আহামরি না হলেও মিডল অর্ডারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১৭০ রানের পুঁজি পায় খুলনা টাইটানস।  অথচ শুরুর ব্যর্থতায় কোনঠাসা হয়ে গিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।  সেই বিপর্যয় থেকে দলকে উতরে যেতে সহায়তা করেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।  এরপর শেষ দিকে কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ও আরিফুল হকের ১৮ বলে অর্ধশত রানের ঝড়ো জুটিতে ১৭১ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় খুলনা।

অবশ্য শুরুতে প্রথম ওভারেই হতাশায় শুরু করেছিল খুলনা।  সানজামুলের বলে মেরে খেলেছিলেন চ্যাডউইক। কিন্তু মিড উইকেটে আগেই দাঁড়িয়ে থাকা সৌম্য সরকারের হাতে তালুবন্দী হয়ে ফিরে যান এই তারকা। একটি চারে ওয়ালটন বিদায় নেন ৫ রানে।

এরপর তৃতীয় ওভারেও ব্যর্থতা ধরা দেয় খুলনার ব্যাটিং লাইন আপে। আবারও আঘাত হানেন সানজামুল। ২.৩ ওভারে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফেরেন ক্লিঙ্গার। তিনি ফেরেন ২ রানে। এরমাঝেই অপরপ্রান্ত আগলে রেখে থিতু হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। ৯ রানে ব্যাট করতে থাকা এই তারকাকেও থিতু হতে দেননি শ্রীলঙ্কার দিলশান মুনাবিরা। একেবারে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে।

তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা খুলনাকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ ও রাইলি রোসো। যদিও ধীরে ধীরে খেলছিলেন দুজন। পোক্ত হওয়ার দিকে থাকা এই জুটিকে দলীয় ৯.৫ ওভারে ভেঙে দেন পেসার তাসকিন। তাসকিনকে উড়িয়ে মেরেছিলেন রোসো। ডিপ স্কোয়ার লেগে সৌম্য সরকারের হাতে তিনি ধরা পড়েন ২৫ রানে।  তবে অপর প্রান্ত ধরে খেলতে থাকেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিছু দর্শনীয় বাউন্ডারি মেরে রানের চাকা সচল রাখেন। তবে ব্যক্তিগত ৪০ রানে তাকে এনামুল হকের ক্যাচ বানান পেসার তাসকিন আহমেদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ১৮ রানে জয়ী খুলনা টাইটান্স।

খুলনা টাইটান্স: ১৭০/৭ (২০ ওভার)

(চাঁদউইক ওয়ালটন ৫, নাজমুল হোসেন শান্ত ৯, মাইকেল কলিঙ্গার ২, রিলি রুশো ২৫, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪০, আরিফুল হক ৪০, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ৩০, জফরা আর্চার ১১*; সানজামুল ইসলাম ২/২০, সিকান্দার রাজা ০/১৭, দিলশান মুনাবিরা ১/১৬, শুভাশিস রায় ১/২১, তাসকিন আহমেদ ৩/৪৩, তানভীর হায়দার ০/৪৪, লুইস রিসি ০/৯)।

চিটাগং ভাইকিংস: ১৫২/৭ (২০ ওভার)

(লুকে রঞ্চি ২, সৌম্য সরকার ০, এনামুল হক বিজয় ১৮, দিলশান মুনাবিরা ১০, মিসবাহ-উল-হক ৩০, সিকান্দার রাজা ৩৭, লুইস রিসি ২২, তানভীর হায়দার ১৪*, সানজামুল ইসলাম ৫*; আবু জায়েদ রাহি ৪/৩৫, জফরা আর্চার ১/৩০, শফিউল ইসলাম ১/২৪, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ১/২৯, মোশাররফ হোসেন রুবেল ০/২২, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/৬)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: আবু জায়েদ রাহি (খুলনা টাইটান্স)।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here