নাগরিক সমাবেশের নামে রাষ্ট্রীয় সমাবেশ করছে আওয়ামী লীগ বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সমাবেশে আসতে সরকার বাধ্য করেছে বলেও সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ক্ষমতাচিরস্থায়ী করতে যা যা করা প্রয়োজন তার সবই সরকার করছে।

ফখরুল বলেন, ‘কিছুদিনের জন্য ক্ষমতায় থেকে আনন্দে আছেন। বগল বাজাচ্ছেন, যা ভাবছেন তা হবে না। বিএনপিকে ছাড়া এদেশের মানুষ আর কোন নির্বাচন গেলবে না, মেনে নেবে না।’

‘দেশের মানুষ সকল রাজনৈতিক দলকে আগামী নির্বাচনে দেখতে চায়। তারা নিজের ভোট দিয়ে সরকারের পরিবর্তন চায়, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তবে এটা সম্ভব একমাত্র নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থায়।’

আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘কোন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। যে সংবিধান আপনারা তৈরি করেছেন অনির্বাচিত সংসদে?’।

নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু মাত্র নির্বাচনের আগে ৯০ দিন নিরপেক্ষ থাকবেন তা হবে না। একদিকে হেলিকাপ্টারে করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে আর অন্যদিকে বিএনপি চেয়াপারসনসহ আমরা যারা বিরোধী রাজনৈতিক দলে আছি তারা প্রতিদিন আদালতের বারান্দায় থাকবো সেটা হবে না।’

‘লোক দেখানো নিরপেক্ষতা দেখালে চলবে না। এখন থেকেই নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে, সকল রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নির্বাচনের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে।’

মওলানা ভাসানীর কথা স্মরণ করে ফখরুল বলেন, ‘তিনি আজীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন শোষনকারীর বিরুদ্ধে। তিনি প্রথম বাংলাদেশ স্বাধীন করার ডাক দিয়েছেন। অথচ দুঃখের কথা তিনি যে আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করেছেন তারা ভাসানীকে স্মরণ করতে চায় না।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি জিয়াউল হক নিলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা নাজমুল হক নান্নু, সাংবাদিক জাকারিয়া খান চৌধুরী, জাপা (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে ন্যান্সী রহমান প্রমুখ।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here