২০২ রানের লক্ষ্যটা ছিল রাজশাহী কিংসের জন্য পাহাড় সমান। কঠিন এই লক্ষ্যে জিততে হলে ভালো শুরুর দরকার ছিল তাদের। কিন্তু পারেনি। ব্যাটিংয়ের শুরুতেই আসলে হার দেখে ফেলেছিল তারা। শেষ পর্যন্ত ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে বড় হারে শেষ হয়েছে তাদের ইনিংস। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও আলো ছড়িয়েছেন ঢাকার বোলাররা। যাতে ৬৮ রানের জয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানটা সুসংহত করেছে তারা। শহীদ আফ্রিদির চমৎকার বোলিংয়ে রাজশাহী ১৮.২ ওভারে গুটিয়ে গেছে ১৩৩ রানে।

দুই শতাধিক রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা যেমন হওয়ার দরকার ছিল মোটেই তেমনটা হয়নি রাজশাহীর। স্কোর বোর্ডে ২ রান উঠতেই উইকেট হারায় তারা। এবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে রনি তালুকদারকে সাজঘরের রাস্তা দেখান আবু হায়দার রনি। পরে তালুকদারের চেনানো পথে হেঁটেছেন অন্য ব্যাটসম্যানরাও।

শুরু আর শেষে মুমিনুল-মুশফিকদের ভুগিয়েছেন রনি। আর মাঝে জোর ঘূর্ণিতে নাস্তানুবাদ করেছেন আফ্রিদি। পাকিস্তানি লিজেন্ড একে একে ফিরিয়েছেন মুমিনুল হক (১৬), সামিট প্যাটেল (৬) এবং রাজশাহীর আগের ম্যাচের নায়ক জাকির হাসান। তবে দল না জিতলেও জাকির ছিলেন জাকিরে। আজও ২৩ বলে ৩৬ রান করেছেন তিনি। আফ্রিদির বলে ফিরেছেন মেহেদী হাসান মিরাজও। ব্যাট হাতে এই মিরাজের শিকার হয়েছিলেন আফ্রিদিও।

আফ্রিদি ছাড়াও রনি ৩টি, সাকিব ২টি ও মোহাম্মদ সাদ্দাম একটি উইকেট নেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সূচনাটা ভালোই করেছিলেন দুই ওপেনার এভিন লুইস এবং শহিদ আফ্রিদি। তবে ৮ বলে ব্যক্তিগত ১৫ রানের মাথায় মেহেদি হাসান মিরাজের শিকার হয়ে ফেরেন আফ্রিদি। এরপর ক্রিজে আসেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জহুরুল হক। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দলীয় ৭৫ রান এবং ব্যক্তিগত ১৩ রানে মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন।

জহুরুল ফিরে গেলে লুইসকে সঙ্গে দিতে আসেন নাদিফ চৌধুরী। জুটি লম্বা করতে পারেননি তারাও। দলীয় ৯৯ রান এবং ব্যক্তিগত ৬৫ রানে হোসেন আলীর বল মুমিনুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লুইস। তার ৩৮ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও একটি বিশাল ছক্কার মার।

লুইস ফেরার পর জুটি বড় করতে পারেননি কুমার সাঙ্গাকারা-নাদিফও। দলের সংগ্রহে মাত্র ৬ রান যোগ করার পরই হাবিবুর রহমানের শিকার হন নাদিফ চৌধুরী।

সাঙ্গাকারার সঙ্গে জুটিতে ১১ বলে মাত্র ১১ রান যোগ করেই বিদায় নেন সাকিব আল হাসান। দলীয় ১২৪ রানের মাথায় সামিট প্যাটেলের বলে হাবিবুর রহমানের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন সাকিব।

এরপর সাঙ্গাকারাকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন কাইরন পোলার্ড। কিন্তু দলীয় ১৮৬ রান এবং ব্যক্তিগত ২৮ রানের মাথায় হোসেন আলীর বলে হাবিবুর রহমানের হাতে ধরা পড়েন সাঙ্গাকারা।

অন্যদের আসা-যাওয়ার মধ্যে ঝড় তোলেন পোলার্ড। ২৫ বলে পাঁচটি চার ও তিন ছক্কায় ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন ক্যারিবীয় দানব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ঢাকা ডায়নামাইটস: ২০ ওভারে ২০১/৭ (লুইস ৬৫, আফ্রিদি ১৫, জহুরুল ১৩, নাদিফ ৬, সাঙ্গাকারা ২৮, সাকিব ১১, পোলার্ড ৫২*, নারাইন ০; হাবিবুর ১/৪৩, মিরাজ ২/৩২, ফরহাদ ০/৪০, হোসেন ৩/৩৮, ফ্রাঙ্কলিন ০/২৯, সামিত ১/১৮)।

রাজশাহী কিংস: ১৮.২ ওভারে ১৩৩ (মুমিনুল ১৬, রনি ০, সামিত ৬, জাকির ৩৬, মুশফিক ২, ফ্রাঙ্কলিন ৯, স্যামি ১৯, মিরাজ ১০, ফরহাদ ৬, হাবিবুর ১*, হোসেন ১; আবু হায়দার ৩/১১, সাকিব ২/২২, নারাইন ০/৩২, মোসাদ্দেক ০/১৮, আফ্রিদি ৪/২৬, সাদ্দাম ১/১৯)

ফল: ঢাকা ডায়নামাইটস ৬৮ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা: এভিন লুইস।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here