আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের (ঘাটাইল) এমপি আমানুর রহমান খান রানার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

রবিবার এ বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।

এর আগে গত ১৬ নভেম্বর রানাকে কেন জামিন দেয়া হবে সে বিষয়ে জারি করা রুলের শুনানি শেষ। এ বিষয়ে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। রানার জামিন দেয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। আর জামিনের বিরোধীতা করে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজিবুর রহমান।

চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এন এম বসির উল্লাহ’র হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে গত ১৮ এপ্রিল রানাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন ০৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত। এর পরে গত ৮ মে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ আবেদনটির শুনানি ৪ মাসের জন্য মুলতবি ও ৬ মাসের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

এরপর আপিল বিভাগে কয়েকদফা জামিন স্থগিত নিয়ে শুনানি মুলতবি করা হয়। গত ১৯ অক্টোবর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ জামিনের এ স্থগিতাদেশ চলমান রেখে ৪ সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির আদেশ দেন। ১৬ নভেম্বর হাইকোর্টে এ রুল শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে রায়ের জন আজকের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি করে হত্যা করা হয়। ৩ দিন পর তার স্ত্রী টাঙ্গাইল মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুর ও  তার ৩ ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর গত ৬ এপ্রিল আসামিদের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন রানা। তবে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here