লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি বলেছেন, তার পদত্যাগকে ঘিরে সৃষ্ট সংকট প্রসঙ্গে তিনি শিগগিরই দেশে ফিরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন। শনিবার সৌদি আরব থেকে ফ্রান্স সফরে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন হারিরি।

তিনি বলেন, “লেবাননের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আমি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৈরুতে ফিরে যাব এবং স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করব। এরপর প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের সঙ্গে বৈঠকের পর সব বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করব।”

প্রধানমন্ত্রী হারিরি গত ৪ নভেম্বর সৌদি আরব সফরে গিয়ে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে লেবাননের পাশাপাশি গোটা মধ্যপ্রাচ্যবাসীকে বিস্মিত করেন।  তখন থেকে লেবানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলে আসছিলেন, সৌদি সরকার হারিরিকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য করেছে এবং তাকে রিয়াদে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

অবশ্য প্রায় দু’সপ্তাহের নীরবতা শেষে শনিবার ১৮ নভেম্বর হারিরি নিজের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রিয়াদ থেকে প্যারিস সফরে যান। কিন্তু তার দুই সন্তান এখনো রিয়াদে অবস্থান করছে।

প্যারিসে পৌঁছেই সাদ হারিরি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। লেবাননের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ম্যাকরনই হারিরিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্যারিসে নিয়ে গেছেন।

প্যারিসে পৌঁছে ম্যাকরনের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন হারিরি। সেখানে তিনি আউনকে জানান শিগগিরই দেশে ফিরে তিনি স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন এখনো সাদ হারিরির পদত্যাগপত্র গ্রহণ বা প্রধানমন্ত্রী পদে কাউকে নিয়োগ দেননি। কাজেই হারিরিকে এখনো লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

এদিকে হারিরি সৌদি আরব ত্যাগ করলেও তার দুই সন্তান এখনো সৌদি আরবে থেকে যাওয়ায় তাকে নিয়ে সৌদি রাজার ‘ভয়ঙ্কর খেলা’ শেষ হয়ে যায়নি বলে অনেক মনে করছেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here