বিপিএলের ঢাকা পর্ব-১ এর শেষ ম্যাচে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্স। শেষ বল পর্যন্ত দু’দলের সমান সম্ভবনা থাকলেও শেষ দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ৩ রানের জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন মাশরাফিরা।

এদিন ১৪৩ রানে পুঁজি নিয়ে লড়াই করতে নামে রংপুর। মিরপুর পর্বের শেষ ম্যাচে হেরে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকল তামিম ইকবালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ঢাকা দুইয়ে। তিনে খুলনা। চারে সিলেট। রংপুর পাঁচে উঠে শেষ চারের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। রাজশাহী ছয়ে। চিটাগং সাতে।

এদিন অতিরিক্ত রান বেশি দেওয়া কাল হয়ে বসেছিল মাশরাফীর দলের। ১৯টি অতিরিক্ত রান দিয়েছেন তারা। যার মধ্যে ওয়াইড ১২টি। মালিঙ্গা একাই দিয়েছেন ৬টি ওয়াইড। অতিরিক্ত থেকে ৬ রান দিলেও কিপটে বোলিং তারই। ৪ ওভারে দিয়েছেন ২০ রান। নিয়েছেন একটি উইকেট।

লুইস-জহুরুলের ব্যাটে পথেই ছিল ঢাকা। দশম ওভারে মাশরাফী এসে ধরেন রানের লাগাম। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই জহুরুলকে বোল্ড করেন মাশরাফী। গুড লেন্থের বল পুল করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে আঘাত হানে স্টাম্পে। ১৯ বলে ২৯ করে ফেরেন চারে নামা জহুরুল।

৩ ছক্কায় ২৫ বলে ২৮ রান করে ফেরেন এই ক্যারিবীয় ওপেনার। তিনটির মধ্যে দুটি ছক্কা ছিল বিশাল। একটি মাশরাফীর বলে অপরটি সোহাগ গাজীর বলে। বড় দুটি ছক্কাই মারেন মিড উইকেটের উপর দিয়ে। গ্যালারির দ্বিতীয় তলার সারিতে পড়ে বল। রান বের করতে না পারায় কিছুটা তালগোল পাকিয়ে রানআউট হন মোসাদ্দেক।

২ উইকেটে ৬৯ থেকে স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ৭৫। ইনিংসের ১৩তম ওভারে পেরেরাকে এক ছক্কা ও এক চারে ১৩ রান তুলে এগিয়ে দেন আফ্রিদি। ২১ করা আফ্রিদির লেগস্টাম্প উপড়ে ফেলেন রুবেল। শেষ দিকে রংপুরের চিন্তা ছিল ডট বলে। ডট বলের পাশাপাশি নিয়মিত উইকেট তুলতে পারায় শেষ পর্যন্ত ১৩৯ রানে অলআউট হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। মাশরাফী, রুবেল ও পেরেরা নেন দুটি করে উইকেট।

রংপুরের ইনিংসে ছিল গেইল কাহিনী। জীবন পেয়েছিলেন চার রানে থাকতে। আবু হায়দারকে শর্ট-থার্ডম্যানে ওভাবে ক্যাচ ছাড়তে দেখে গেইল একটু হেসেছিলেন। এরপর হাসে তার ব্যাটও। সেই হাসি থামে ২৮ বলে ৫১ রান করার পর। গেইলের এমন ব্যাটিংয়ের দিনে রংপুর রাইডার্সের রান ১৪২’এ থেকেছে শেষ দিকে সাকিবের আগুনে বোলিংয়ের কারণে।

ঢাকার অধিনায়ক সাকিব এদিন প্রথম তিন ওভারে এক উইকেট নেয়ার পর ইনিংসের শেষ ওভারে চারজনকে ফেরান। এর ভেতর একজন স্টাম্পিং। সাকিব রান দিয়েছেন ১৬।

গেইলের ওপেনিং সঙ্গী ম্যাককালাম তেমন কিছু করতে পারেননি। ৮ বলে ৬ রান করে আফ্রিদির বলে বোল্ড হন। মোহাম্মদ মিঠুন ২৬ বলে ২২ করেন। শাহরিয়ার নাফীস আজও ব্যর্থ। এদিন ৯ বলে ৯ করতে পারেন। অধিনায়ক মাশরাফী আগে নেমেছিলেন। আফ্রিদির বলে ক্যাচ উঠিয়ে দেয়ার আগে ১১ বলে ১৫ করে যান।

ঢাকার মোহাম্মদ আমির ৪ ওভারে ৩৪ রান খরচায় এক উইকেট দখল করেন। শহীদ আফ্রিদি ৩৯ রান দিয়ে ফেরান দুইজনকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ঢাকা ডায়নামাইটস: ২০ ওভারে ১৪৪ (নারাইন ০, সাকিব ১১, লুইস ২৮, জহুরুল ২৯, মোসাদ্দেক ২, মারুফ ১৫, আফ্রিদি ২১, পোলার্ড, নাদিফ ২, আমির ০, আবু হায়দা ০; গাজী ২/১৮, মাশরাফি ২/৩০, রুবেল ২/২৯, মালিঙ্গা ১/২০, পেরারা ২/৩৭)

রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৩৯ (ম্যাককালাম ৬, মিথুন ২২, গেইল ৫১, নাফিস ৯, মাশরাফি ১৫, পেরেরা ১৫, বোপারা ১২, জিয়া ৪, গাজী ০, মালিঙ্গা ১*, রুবেল ০; আফ্রিদি ২/৩৯, মোসাদ্দেক ১/৪, সাকিব ৫/১৬, আমির ১/৩৪)।

ফল: ৩ রানে জয়ী রংপুর রাইডার্স

ম্যাচসেরা: ক্রিস গেইল।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here