আপনার বয়স যদি ৮১ বছর হয় তাহলে নিজেকে কি ভাববেন? বুড়ো? ভাবতেই পারেন। তবে আপনি যদি ইকারিয়া এর বাসিন্দা হন তাহলে জেনে রাখুন আপনি মোটেও বৃদ্ধ নন। গ্রীসের ইকারিয়া দ্বীপে ৮১ বছর বয়সী বাসিন্দাদেরও যুবকের খাতায় গোণা হয়।

গ্রীসের রাজধানী এথেন্স থেকে এজিয়ান সাগরের বুকে ৯ ঘণ্টার ফেরি সফর। পৌঁছে যাবেন মাত্র ৩০০ জন বাসিন্দার এক গ্রাম ক্রিস্টোস র্যা চেস-এ। ইকারিয়ার এ দ্বীপটিতে মানুষের গড় আয়ু ৯০ বছরেরও বেশি। বিশ্বের যে ৫টি স্থানকে ‘ব্লু জোন’ অর্থ্যাত সব থেকে স্বাস্থ্যকর স্থান বলে আখ্যায়িত করা হয় তার মধ্যে ইকারিয়া একটি। খবর বিবিসি’র।

সম্প্রতি এক পর্যটক মারিস টেজাডা’র বরাত দিয়ে বিবিসি’র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রামটির এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দার বয়সই ৯০ এর ওপরে। এখানকার বাসিন্দারা ১০০ বছর বয়সেও পুরোদমে সুস্থ থাকেন। নিয়মিত করে যেতে পারেন প্রতিদিনকার কাজকর্ম।

পর্যটক টেজাডার আলাপ হয় দ্বীপের ১০৫ বছর বয়সী বাসিন্দা লোয়ানা প্রৌ-এর সঙ্গে। জীবনের এক শতক পার করে এসেও দিব্বি তাঁত বুনে যাচ্ছেন। টেজাডাকে লোয়ানা বলেন, ‘সেটাই কর যা তোমার সত্ত্বা তোমাকে করতে তাগিদ দেয়। এক দশক আগে আমার স্বামী মারা যাবার পর থেকে আমি তাই করে যাচ্ছি যা করতে আমি ভালবাসি। এরপরেও আমি বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছি কিন্তু আমি বলেছি, তাঁতের সঙ্গেই আমার বিয়ে হয়ে গেছে’। প্রায় ৯০ বছর বয়সেও বিয়ের প্রস্তাব পাবার ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে, ইকারিয়াতে ৮০-৯০ বছর বয়সেও আপনি যুবক বা যুবতী।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘায়ুর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার এবং প্রাণোবন্ত জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। চিকিৎসক এবং নৃতত্ববিদরা সুস্বাস্থ্যের জন্য শক্তিশালী পারিবারিক এবং সামাজিক বন্ধনের কথা বলেন। ইকারিয়াতে বসবাসকারী বাসিন্দাদের মধ্যেও জোরালো পারিবারিক এবং সামাজিক মেলবন্ধন দেখা যায়। এ দ্বীপের প্রোঢ়দের দেখা যায় নাতি-নাতনীদের লালন পালন করতে। ইকারিয়া নিয়ে গবেষণা করা বিভিন্ন গবেষকের ধারণা এ দ্বীপের মানুষের মধ্যে দুঃশ্চিন্তা করার প্রবণতা কম। মূলত দুঃশ্চিন্তা করার বিষয়ও তেমন একটা পাওয়া যায় না এ দ্বীপে। মূলত এ কারণেই এখানকার মানুষেরা দীর্ঘায়ু সম্পন্ন হয়।

তাই আপনার যদি নিজেকে বয়স্ক মনে হয় তাহলে ঘুরে আসতে পারেন ইকারিয়া থেকে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here