‘পদ্মাবতী’র সমর্থনে একজোট হয়ে ১৫ মিনিটের কর্মবিরতি পালন করবেন ভারতের চলচ্চিত্র পরিচালকরা। ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যান্ড টিভি ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফটিডিএ) ডাকে এ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

সৃজনশীল মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার দাবিতে চলচ্চিত্র শিল্পের আরো ২০টি সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে তারা এ ঘোষণা দেয়।

আইএফটিডিএ-এর মুখপাত্র অশোক পণ্ডিত ভারতীয় বার্তা সংস্থা আইএএনএস-কে বলেন, ‘‘আমরা ‘পদ্মাবতী’ও সঞ্জয় লীলা বানসালির প্রতি সমর্থন দিয়েই যাব। কারণ কোনো গল্প নিজের মতো করে বলতে পারা প্রত্যেক সৃজনশীল মানুষের অধিকার।’’

তিনি আরো বলেন, ‘কোনো ইতিহাসের ওপর সিনেমা বানানো সহজ ব্যাপার নয়। এটা অনেক বড় দায়িত্ব আর সঞ্জয় একজন দায়িত্বশীল নির্মাতা। এই সিনেমার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে আমরা রোববার (২৬ নভেম্বর) ১৫ মিনিটের কর্মবিরতি পালন করবো। এসময় মুম্বাইয়ের কোনো শুটিং ইউনিটে আলো জ্বলবে না, কাজও হবে না।’

পণ্ডিত বলেন, ‘‘কিছু বহিরাগত ব্যক্তি যখন-তখন সিনেমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, নির্মাতা ও কলাকুশলীদের হুমকি দেয়, আমরা তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানাই। আমরা গণতান্ত্রিক পন্থায় এর নিন্দা জানিয়ে যাব। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আমাদের বিশ্বাস আছে যে ‘পদ্মাবতী’ন্যায়বিচার পাবে।’’

তিনি আরো বলেন, ‘চলচ্চিত্রকে লক্ষ্য করে কিছু মানুষের এমন আক্রমণে আমরা কষ্ট পাই। দুর্ভাগ্যবশত এসময় আমরা অন্য কারো এমনকি সরকারের কাছ থেকেও সহায়তা পাই না। যেন আমরা এখানে এতিম।’

পণ্ডিত বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক দেশে বাস করি। দেশের সরকার ও বিচার বিভাগের আমাদের ওপর আস্থা রয়েছে। প্রতিবাদকারীরা সিনেমাটি এখনো দেখেইনি। একটি ভিডিওতে সঞ্জয় পরিষ্কার করেছেন যে, সিনেমাটি রানী পদ্মাবতীর প্রতি একটি শ্রদ্ধার্ঘ্য আর এতে কোনো অশ্লীল দৃশ্য নেই।’

‘মে আজাদ হু’ (আমি স্বাধীন) শিরোনামের এই কর্মসূচিতে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের সদস্যরা রোববার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ১৫ মিনিট কর্মবিরতি পালন করবেন।

‘পদ্মাবতী’ সিনেমায় রাজপুত রাণী পদ্মাবতী ও আলাউদ্দিন খিলজীর মধ্যে কিছু ঘনিষ্ঠতা রয়েছে যা রাজপুত সম্প্রদায়কে কষ্ট দিতে পারে– এমন অনুমান থেকে বিতর্কটি শুরু হয়। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু করেছেন ভারতের ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here