সততায় বিশ্বের তৃতীয়স্থান অধিকারী নেতা এবং বিশ্বের ঐতিহাসিক ভাষনদাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর গর্বিত কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদী ও লালপুরের সর্বত্র উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। আগামি বৃহস্পতিবার (৩০ নবেম্বর) সকাল সাড়ে দশটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের ৩২তম রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের মূল পর্বের প্রথম কংক্রিট ঢালাই কাজের উদ্বোধন করবেন।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ায় ঈশ্বরদী-লালপুরসহ দেশবাসীরা যখন মহা পাওয়াকে কেন্দ্র করে আনন্দের জোয়ারে ভেসে চলেছে, ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধুর অন্যতম পরিকল্পনা ও ঈশ্বরদীসহ পাবনা জেলা বাসীর পঞ্চান্ন বছরের লালিত স্বপ্ন পুরনে প্রকল্পের উদ্বোধন হওয়া আরও একটি বিস্ময়কর ইতিহাসের সৃষ্টি । এমনই মহেন্দ্রক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর আগমনীবার্তা ঈশ্বরদী-লালপুর বাসীর মনে নবজাগরনের সৃষ্টি করেছে। তাই উৎসবের আমেজে ডুবে যাওয়া স্থানীয় আওয়মীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা উল্লসিত ঈশ্বরদী-লালপুর বাসীদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে ব্যাপক ভাবে অভ্যর্থণা জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।

সোমবার পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ভুমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপির সভাপতিত্বে আওয়ামীলীগ অফিসে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দলীয় শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান সফল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নাটোর -১ আসনের এমপি এ্যাড.আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে আফতাব হোসেন ঝুলফু ও ইসাহকসহ অন্যান্য নেতারা বিমান বন্দর এলাকার লালপুর অংশে ব্যাপক প্রচারনা মুরু করেছেন। তারা ঐ এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়াও ঢাকায় অবস্থানকারী ঈশ্বরদী এলাকার অন্যান্য নেতারাও গত কয়েকদিন থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানকে সফল করতে গণসংযোগসহ নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ঈশ্বরদী,লালপুর ও পাবনা এলাকার দলীয় শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর ও নিজেদের ছবি সম্বলিত বেনার, পোস্টার,ফেস্টুন টাঙিয়ে ও বিভিন্ন পত্রিকায় অভিনন্দন বিজ্ঞাপন দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে আকর্ষনীয় করে তুলেছেন। নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী বিমান বন্দর থেকে ঈশ্বরদীর “মরন ফাঁদ বলে পরিচিত রেলওয়ে গেট” আলহাজ্বমোড় বিজয়স্তম্ভ হয়ে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের মূল গেট পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটারের মধ্যে অর্ধশত সুসজ্জিত তোড়ন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে কাজ করা হয়েছে। রাশিয়ানদের জন্য নির্মিত ২০ তলা ভবনগুলো আলোক সজ্জা করা হয়েছে।

বিভিন্ন সুত্রমতে,দীর্ঘ ১৩ কিলোমিটার সড়কের দুধারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ,সাংস্কৃতিক,স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার নারী,পুরুষ,শিশুকিশোররা নানাভাবে সুসজ্জিত হয়ে প্রধান মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাবেন। তারা প্রধান মন্ত্রীকে উষ্ঞ অভ্যর্থণা জানানোর পাশাপাশি ঈশ্বরদী বাসীর দীর্ঘ দিনের প্রধান দাবি“ ঈশ্বরদীকে জেলা ঘোষনার”দাবি করবেন। তাদের মতে “যে নেত্রী পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে এবং সততায় বিশ্বের তৃতীয়স্থান অধিকার করতে পারেন”কেবল মাত্র সেইনেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই ঈশ্বরদীকে জেলা ঘোষনা করা সম্ভব।

একই সাথে ভুমিমন্ত্রীর মাধ্যমে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংসনকে রিমডেলিং এ উন্নীত করন,রেলওয়ে গেইটে ফ্লাই ওভার নির্মাণ,পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় অফিসকে সম্প্রসারণ করন,বিমান বন্দর চালু,পাকশীতে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন,ঈশ্বরদী হাসপাতালকে ৫’শ শয্যায় উন্নীত করন, একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন,পেপার মিল চালু করন,স্টেডিয়াম নির্মাণ,কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও মহিলা কলেজকে সরকারী করনের দাবি করা হবে। প্রধান মন্ত্রীর কাছে এমপি আবুল কালাম আজাদের ও লালপুর বাসীর দাবি পদ্মার চরে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে শুরু করা শিল্প পার্কের কাজ দ্রুত শেষ করা। সাঁড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রানা সরদারের পক্ষ থেকেও ব্যাপক গণসংযোগ চালানো হয় বিমান বন্দর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়।

পাকশী ও লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়ন এলাকার বিশাল জমিতে পরমাণু প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। দুই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান শরীফ ও এনামুল হক বিশ্বাস জানান,প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে লক্ষিকুন্ডা ও পাকশীসহ নিকটস্থ এলাকার মানুষ খুশির জোয়ারে ভাসছেন।তারা বলেন, যেহেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হবে প্রকল্পের মধ্যে এবং আয়োজন করেছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি।

সেহেতু অপেক্ষামান সাধারণ মানুষের সেখানে প্রবেশ ও প্রধান মন্ত্রীকে এক নজর দেখার কোন সুযোগ থাকবেনা। সে কারণে সাধারণ মানুষের চাহিদা পুরণের জন্য পাকশী রেলওয়ে আমতলা ফুটবল মাঠে ও নতুন রুপপুর স্কুল মাঠে তিনটি বিশালাকৃতির প্রজেক্টর এবং সাড়ে চার হাজার চেয়ার দিয়ে পৃথক দু’টি প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে। এসব স্থান থেকে তারা প্রধান মন্ত্রীর ভাষন শুনবেন ও দেখবেন। ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যাপকভাবে প্রধানমন্ত্রীর আগমনী বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের ইনচার্জ রুহুল আমিন জানান,পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবারের মধ্যে প্রকল্পের মধ্যে হেলিপ্যাড তৈরীর কাজও শেষ হয়। অনুষ্ঠানকে সুশৃঙ্খল পরিবেশে সুন্দরভাবে সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

রুপপুর পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্রে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা হবে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিট ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনে আসবে।দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে আসবে পরের বছর ২০২৩ সালে। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের আবাসনসহ সকল প্রকার অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

দেশের সর্ববৃহৎ ঈশ্বরদীর রুপপুর পরমাণু প্রকল্পের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ৯১ হাজার ৪’শ কোটি টাকা।শুধু সুদ বাবদ রাশিয়াকে ফেরত দিতে হবে ৬৯ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। আগামি বৃহস্পতিবার প্রকল্পের দ্বিতীয় ফেজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিনিধি এবং রোসাটম-এর পরিচালক আলেক্স জান্ডার নিখাচেভ উপস্থিত থাকবেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here