শুরুটা হয়েছিল সিলেট সিক্সার্সের কাছে হেরে। পরের পাঁচ ম্যাচে টানা জয় তুলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তামিম ইকবালের দল পরে রাজশাহীর সঙ্গে ম্যাচটি হেরে বসলেও জয়ের ধারায় ফিরেছে দ্রুতই। শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি শনিবারের জয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলাও নিশ্চিত করেছে।

শনিবার মিরপুরে ক্লোজ লড়াইয়ে রংপুর রাইডার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ১০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৬।

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল মুখোমুখি হবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে। যার একটি হবে তামিমের কুমিল্লা। তাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার দৌড়ে আছে দুটি দল। খুলনা টাইটানস ও ঢাকা ডায়নামাইটস। খুলনার ১০ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট, আর ঢাকার ১০ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট। দল দুটির শেষের দুই ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তামিমরা প্রতিপক্ষ হিসেবে কাদের পাবে।

পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুই দল মুখোমুখি হয় প্রথম কোয়ালিফায়ারে। জয়ী দল সরাসরি খেলে ফাইনালে। হেরে যাওয়া দলেরও থাকবে সুযোগ। পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় ও চতুর্থ দলের মধ্যে এলিমিনেটর ম্যাচের জয়ী দলের সঙ্গে খেলবে তারা। তাতে জয়ী দলই খেলবে ফাইনাল। দ্বিতীয় ফাইনালিস্ট নিশ্চিত হওয়ার ম্যাচটি সেমির মতো হলেও বিপিএলের আক্ষরিক অর্থে এটি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার।

লক্ষ্য মাত্র ৯৮ রানের। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে কতটা আগে জয় নিশ্চিত করবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, সেটাই ছিল জানার। জয় পেয়েছে তারা ঠিকই, তবে ঘাম ঝরিয়ে। রংপুর রাইডার্স অল্প পুঁজি নিয়েও লড়াই করেছে বুক চিতিয়ে। অসাধারণ বোলিংয়ে শেষ দুই ওভারেও জমিয়ে রেখেছিল তারা ম্যাচ। যাতে ৯৭ রানের স্কোরেও মিরপুরে মঞ্চায়িত হলো রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ। যে ম্যাচে কুমিল্লার ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত হয় মাত্র ৩ বল আগে।

মেহেদী হাসান (৪/২২) ও সাইফউদ্দিনের (৩/২২) দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৭.১ ওভারে রংপুর অলআউট হয় মাত্র ৯৭ রানে। জবাবে মাশরাফি বিন মুর্তজা (৩/২৪) ও নাজমুল ইসলামের (২/১৭) চমৎকার বোলিংয়ে এই স্কোর পেরোতেই কুমিল্লাকে খেলতে হয় ১৯.৩ ওভার পর্যন্ত

স্কোর বেশি না হওয়ায় বোলিংয়ে দারুণ শুরুর প্রত্যাশায় ছিল রংপুর। সেটা তারা পেয়েও যায়। মাশরাফির আঘাতে ৩ রান করে ফেরেন লিটন দাস। তামিম ইকবাল ক্রিজে বেশ খানিক সময় টিকে থাকলেও রংপুরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি। সোহাগ গাজীর শিকার হয়ে কুমিল্লার অধিনায়ক ফেরেন ২২ বলে ২২ রান করে।

জস বাটলারও ব্যর্থ, ৯ বলে করেন মাত্র ৫ রান। টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করেও টিকতে পারেননি ইমরুল কায়েস (২৬ বলে ১৪)। শোয়েব মালিককেও হাত খুলতে দেয়নি মাশরাফিরা। নাজমুলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২৪ বলে এই অলরাউন্ডার করেন ২০ রান।

অল্প রানের স্কোর হলেও ম্যাচের উত্তেজনার টিকে থাকে শেষ দুই ওভার পর্যন্ত। ১৯তম ওভারে আগের বলে মাশরাফি ডেলিভারিতে সাইফউদ্দিন (৫) আউট হলে ম্যাচ জমে যায় আরও। কিন্তু পরের বলে নতুন ব্যাটসম্যান হাসান আলী ছক্কা মারলে ম্যাচ থেকে আবার ছিটকে যায় রংপুর।

শেষ ওভারে তখন জয়ের জন্য কুমিল্লার দরকার পড়ে ২ রান। ইসুরু উদানা প্রথম দুই বল ডট দিলেও তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন মারলন স্যামুয়েলস (১৬*)।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: চার উইকেটে জয়ী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

রংপুর রাইডার্স ইনিংস: ৯৭ (১৭.১ ওভার)

(জিয়াউর রহমান ৬, ক্রিস গেইল ০, ব্রেন্ডন ম্যাককলাম ২৪, মোহাম্মদ মিথুন ১৭, রবি বোপারা ৪, চামারা কাপুগেদারা ২, নাহিদুল ইসলাম ৬, মাশরাফি বিন মুর্তজা ৯, ইসুরু উদানা ৯, সোহাগ গাজী ১২, নাজমুল ইসলাম ১*; মুজিব জাদরান ০/১৭, মেহেদী হাসান ৪/২২, হাসান আলী ১/১৫, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩/২২, আল-আমিন হোসেন ১/১৮)।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ইনিংস: ১০০/৬ (১৯.৩ ওভার)

(তামিম ইকবাল ২২, লিটন দাস ৩, ইমরুল কায়েস ১৪, জস বাটলার ৫, শোয়েব মালিক ২০, মারলন স্যামুয়েলস ১৬*, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৫, হাসান আলী ৬*; সোহাগ গাজী ১/১৫, মাশরাফি বিন মুর্তজা ৩/২৪ ইসুরু উদানা ০/১৮, রবি বোপারা ০/১১, নাজমুল ইসলাম ২/১৭, নাহিদুল ইসলাম ০/১৭)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: মেহেদী হাসান (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স)।

 

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here