লা লিগায় আগের ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছিল বার্সেলোনা। এবার ঘরের মাঠেও পয়েন্ট হারাল আর্নেস্তো ভালভার্দের দল। সেল্টা ডি ভিগোর সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছেন মেসি-সুয়ারেজরা।

গত বছরের ডিসেম্বরের পর এই প্রথমবার নিজেদের মাঠে পয়েন্ট খোঁয়ালো বার্সেলোনা। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও লিওনেল মেসির গোলে সমতায় ফেরে, এরপর এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান ২-১ করেন লুই সুয়ারেস। কিন্তু লিডটা ধরে রাখতে পারেনি, ম্যাক্সি গোমেজের গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়তে হয় বার্সাকে।

শুরুর দিকেই মেসি অতিথিদের জন্য বিপজ্জনক মুহূর্ত তৈরি করেন। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে সেল্তার বক্সের দিকে এগিয়ে যান তিনি। কিন্তু তার ওই শট কর্নারে পরিণত হয়। ২০ মিনিট পর দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাকে ন্যু ক্যাম্প স্তব্ধ করে দেয় অতিথিরা। ড্যানিয়েল ওয়াস ও ইয়াগো আসপাসের মিলিত চেষ্টায় বল পান গোমেজ, তার শট প্রথম চেষ্টায় লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন বার্সা গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন। কিন্তু ফিরতি ভলিতে ১-০ করেন আসপাস।

সেল্তা এগিয়ে ছিল মাত্র দুই মিনিট। সুয়ারেস ও পাউলিনিয়ো ডিবক্সে খুঁজে পান মেসিকে। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড বাঁপায়ের শটে সহজে পরাস্ত করেন গোলরক্ষক রুবেন ব্লাঙ্কোকে। তিন মিনিট পর সুয়ারেস বার্সাকে এগিয়ে দেওয়ার উদযাপন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মেসির তৈরি করা বলটি সেল্তার জালে জড়ালেও অফসাইডের পতাকা উড়ান লাইন্সম্যান।

ভাগ্য সহায় হয়নি মেসিরইভান রাকিতিচের ক্রসে বলে পা লাগাতে পারেননি বলে আবার গোলবঞ্চিত হন সুয়ারেস। ম্যাচঘড়ি আধঘণ্টা থাকতে মেসি তার দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু পোস্টে লাগে বল। বিরতির কয়েক মুহূর্ত আগে সেল্তারও সুযোগ এসেছিল। পিওনে সিস্তোর ক্রস ওয়াসকে খুঁজে পেলেও তিনি ক্রসবারের উপর দিয়ে বল মারেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পাউলিনিয়ো বার্সাকে এগিয়ে দেওয়ার মুহূর্ত তৈরি করেও ব্যর্থ হন। তার কোনাকুনি শট জালের পাশে বাধা পায়। তবে সময় এক ঘণ্টা পার হতে ঠিক এগিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। মেসির তৈরি করা বলে জোর্দি আলবার ক্রস খুঁজে পায় সুয়ারেসকে। উরুগুয়ান স্ট্রাইকারের শট খুঁজে পায় ঠিকানা। ২-১ এ এগিয়ে যায় বার্সা। কয়েক মিনিট পর মেসির হেড ব্লাঙ্কো চমৎকারভাবে ঠেকিয়ে দেওয়ায় বার্সার স্কোর ৩-১ হয়নি।

তবে খেলা শেষ হওয়ার ২০ মিনিট আগে বার্সার ডিবক্সের দিকে ছুটতে থাকা আসপাসকে ডানদিকে আটকাতে পারেননি স্যামুয়েল উমতিতি। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তিনি। খুব সহজেই আসপাস ঢুকে যান প্রতিপক্ষের এলাকায়, এরপর তার কাটব্যাক থেকে গোমেজের গোল।

জয়ের জন্যে গোল পেতে শেষদিকে মরিয়া ছিল বার্সা। পাকো আলকাসেরের হেড ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ইনজুরি সময়ে মেসির বাঁকানো ফ্রিকিক পোস্ট হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। তাই আরেকটি গোলের দেখা আর পায়নি স্বাগতিকরা।

১৪ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। এক ম্যাচ কম খেলে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে ভ্যালেন্সিয়া। ১৩ ম্যাচে সমান ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তিন ও চারে দুই মাদ্রিদ- রিয়াল ও অ্যাতলেতিকো।

 

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here