ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে তৃণমূল পর্যায় থেকে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।আর দেশের তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে নতুন শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছে অভিমত ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক মেগা ইভেন্ট ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’ বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উদ্বোধন করে এ কথা বলেন তিনি।

‘রেডি ফর টুমরো’ ভবিষ্যতের জন্য তরুণদের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাবী তরুণরাই বিকশিত তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে উচ্চতর দেশে নিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে রোবট সোফিয়াকে আনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি নাগরিকত্ব পাওয়ার রোবট সোফিয়ার সঙ্গে কথা বলেন।

আর আগে উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু অনেকে এ নিয়ে হাসিঠাট্টা করেছিল। জানি না মানুষ এখন কী ভাবে। তবে এটা বলতে পারি, এ দেশের মানুষ এখন ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করতে পারে।

দেশে এখন প্রায় ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহার হচ্ছে- উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল ফোনের সেবা পৌঁছে দিতেই আমরা বেসরকারি খাতে এই ব্যবসা উন্মুক্ত করেছিলাম।

মানুষ এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিলসহ ট্যাক্সও দিতে পারে। এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই দেশে ফোরজি চালু হবে।

এ সময় বিএনপি সরকারের আমলে সাবমেরিন কেবল সংযোগ না নেয়ার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘সাবমেরিন কেবল বিএনপি নেয়নি তথ্য পাচার হবে বলে। জানি না এখন তারা কী বলে। এখন একটা না, একটা দিয়ে শুরু করেছিলাম, এখন দুটো সাবমেরিন কেবল আমরা নিয়ে এসেছি। আশেপাশের দেশে ভাড়াও দিচ্ছি, পয়সাও পাচ্ছি।’

২০০১ সালে ৫০ শতাংশ মূল্যে নেদারল্যান্ডস থেকে ১০ হাজার কম্পিউটার আনার চুক্তি হয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা জানান, বিএনপি এই চুক্তি বাতিল করে। এসব কম্পিউটার দেয়া হতো বিভিন্ন স্কুলে।

সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কেন এই চু্ক্তি বাতিল করেন, সেটাও জানান শেখ হাসিনা। জানান সে দেশের টিউলিপ এন্টারপ্রাইজ থেকে কেনার চুক্তি হয়েছিল সেই কম্পিউটার। শেখ রেহানার মেয়ের নামও টিউলিপ- কেবল এ কারণে খালেদা জিয়া এসব কম্পিউটার আনেননি আর এ কারণে সরকারকে ৩২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইন আহমেদ পলক, মন্ত্রণালয়ের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জাব্বার প্রমুখ এই আয়োজনে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং রোবোটিক্সের সমন্বয়ে গড়া মেলায় অতিথি হিসেবে আগত রোবট ‘সোফিয়ার’ সঙ্গে কথা বলে ট্যাব চেপে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেলার উদ্বোধন করেন। এরপর বর্ণাঢ্য লেজার শো অনুষ্ঠিত হয়।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ এবং বাংলাদেশ সফটওয়্যার ইনফর্মেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সভাপতি ও বিজয় সফটওয়ারের প্রবক্তা মোস্তফা জব্বার ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী।

কয়েকটি আইটি সংগঠনের সহযোগিতায় আইসিটি বিভাগ ও বেসিস ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’-এর আয়োজন করেছে।

চার দিনব্যাপী এ মেলায় তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) খাতে সম্ভাবনার দুয়ার খোলার লক্ষে এ অনুষ্ঠানে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও অর্জন তুলে ধরা হবে।

কয়েকটি আইটি সংগঠনের সহযোগিতায় আইসিটি বিভাগ ও বেসিস ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’-এর আয়োজন করেছে যার প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘রেডি ফর টুমরো’।

গত ৯ বছরেরও বেশি সময়ে আইসিটি সেক্টরে বাংলাদেশের যে অর্জন তা নিয়ে বাংলাদেশ আগামীর জন্য প্রস্তুত বলে এ বছরের প্রতিপাদ্যে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন এবং দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘এই লক্ষ্য অর্জনে আইসিটি ডিভিশন বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপনসহ কিছু মেগা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘আমি জেনে খুশি হয়েছি যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ উদযাপনে আইসিটি বিভাগ আইসিটির একটি মেগা প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’-এর আয়োজন করেছে। এ উপলক্ষে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে দেশের জনগণ গুরুত্বের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণ করায় আমি দেশবাসীকে অভিনন্দন জাগাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৯ সালে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর যাত্রা শুরু করি। জনগণ এই দর্শনকে স্বাগত জানায় এবং দেশে দ্রুত সর্বক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে সংযোগ, সার্ভিস ডেলিভারি, যোগাযোগ, ব্যাংক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য অনেক আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। এই প্রচেষ্টা আইসিটি খাতে বিশ্বায়ানে আমাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করে।’

তিনি বলেন, ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে আইসিটির প্রভাবে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের প্রচেষ্টায় সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে সহজ হবে। এ ব্যাপারে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের প্রচেষ্টা ও সংযুক্তিকে আমি সাধুবাদ জানাই।’ তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এসব প্রচেষ্টা ২০২১ সালের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য আইসিটি খাতে ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান, রফতানির মাধ্যমে ৫ কোটি মার্কিন ডলার আয় ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ উন্নয়নে আমাদের সাহায্য করবে।’

এই প্রদর্শনী বিশ্ব সম্প্রদায়ের পাশাপাশি দেশের মানুষের উদ্ভাবন, ডিজিটালাইজেশন উদ্যোগ, উৎপাদন ও দেশের মানুষকে সেবা প্রদানে সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। জ্ঞান বিনিময় ও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই আয়োজন নতুন চিন্তা-ভাবনার উদ্ভব ও সমাধান এবং ব্যবসা সৃষ্টির সুযোগ করে দেবে বলেও তারা বাণীতে উল্লেখ করেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here