ব্যালন ডি’অর যেন একটু বেশিই স্বস্তির বাতাস বইয়ে দিয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জীবনে। বৃহস্পতিবার পঞ্চমবারের মত ইউরোপ সেরার ট্রফি হাতে তুলেই নিজেকে ‘ইতিহাসের সেরা’ দাবি করেছেন। দুদিন পর ফুরফুরে মেজাজে মাঠে নেমে করলেন জোড়া গোল। তাতে সেভিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে জিনেদিন জিদানের দল।

লা লিগায় পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে থাকা সেভিয়াকে নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলাই করেছেন সিআর সেভেন। ক্লাব ক্যারিয়ারে ৫০০তম জয়ের দেখা পাওয়ার ম্যাচ চারটি গোলের সঙ্গে জড়িয়ে তার নাম। রোনালদোর চেনারূপে ফেরার দিনে গোল করেছেন নাচো ফার্নান্দেজ, টনি ক্রুস ও আশরাফ হাকিমি।

শনিবার পয়েন্ট টেবিলের তিনে উঠে গেছে রিয়াল। ১৫ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট তাদের। টেবিলের শীর্ষ দল বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমে এসেছে পাঁচে। যদিও বার্সা খেলেছে এক ম্যাচ কম।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শুরু থেকেই উজ্জীবিত রিয়াল। লিগের আগের তিন ম্যাচে দুটি গোলশূন্য ড্র ও একটি কষ্টে পাওয়া জয়ের স্মৃতি ভুলিয়ে দিলো তারা। আক্রমণাত্মক শুরু করা রিয়াল প্রথম দুই মিনিটে দুটি কর্নার আদায় করে নেয়। টনি ক্রুসের নেওয়া দ্বিতীয় কর্নারে বল সেভিয়ার ফরোয়ার্ড মুরিয়েলের গায়ে লেগে ছয় গজ বক্সের মধ্যে পেয়ে দলকে এগিয়ে দেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার নাচো।

রোনালদো প্রথমবার লক্ষ্যে শট নেন ১০ মিনিটে। কিন্তু তার মাটি কামড়ানো শটটি চলে যায় গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে। তবে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফরোয়ার্ড তার তৃতীয় লিগ গোল ঠিক পেয়ে যান ২৩ মিনিটে। মার্কো আসেনসিওর দারুণ রক্ষণচেরা পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে নিচু শটে কাছের পোস্ট দিয়ে লিগে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।

বিরতিতে যাওয়ার আগে ৩১ মিনিটে আরেকবার স্কোরশিটে নাম লেখান রোনালদো। মার্সেলোর শট ডিবক্সে দাঁড়ানো সেভিয়া ডিফেন্ডার হেসুস নাভাসের হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে রিকোকে পরাস্ত করে দলের তৃতীয় গোল করেন বৃহস্পতিবার আইফেল টাওয়ারের চূড়ায় ব্যালন ডি’অর হাতে নেওয়া ফুটবলার। লা লিগা ও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সেভিয়ার বিপক্ষেই সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড।

এবারের লিগে এই নিয়ে চতুর্থ গোল করলেন রোনালদো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে তার গোল হলো ১৪টি।

তিন গোলের পর যেন আরো দুর্দান্ত রিয়াল। যদিও ৩৩ মিনিটে মদ্রিচকে রুখে দিয়ে তাদের চতুর্থ গোল আটকান রিকো। ৩৪তম মিনিটে ছয় গজ বক্সের ঠিক বাইরে থেকে রোনালদোর শূন্যে ঝাঁপিয়ে নেওয়া ভলি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক সার্জিও রিকো। তবে কিছুক্ষণ পর চার মিনিটের ব্যবধানে দুবার বল জালে পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করে ফেলে রিয়াল।

৩৮ মিনিটে ক্রুসকে গোল বানিয়ে দেন ভাসকেস। চার মিনিট পর করিম বেনজিমার অ্যাসিস্টে রিয়ালের পঞ্চম গোল করেন আচরাফ হাকিমি। শেষ দুটি গোলে কিছুটা অবদান ছিল রোনালদোরও।

বিরতি থেকে ফিরে আর ৬৭ মিনিটে মার্সেলোর ক্রস থেকে ঠিক সময়ে হেড করেছিলেন বেনজিমা। কিন্তু রিয়াল ষষ্ঠ গোলবঞ্চিত হয় বল গোলপোস্টে লাগায়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here