৩৬ বছর বয়সে পা রাখলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপের এই নায়কের জন্মদিনে গোটা দেশ জুড়েই শুভেচ্ছার বন্যা বইতে শুরু করেছে। তবে সবথেকে হাস্যকর শুভেচ্ছা বার্তাটি পাঠালেন দেশের টেনিস সুন্দরী সানিয়া মির্জ়া। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সানিয়া লিখেছেন, “হ্যাপিওয়ালা বার্থডে মোটু ?? ?? এখন তুমি সত্যিই বড় হয়ে গেছ।” সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট দলে নিয়মিত সুযোগ মেলে যুবরাজের। তাও আজও তিনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটটারদের মধ্যে একজন। বর্তমানে তিনি ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাইরে রয়েছেন। কিন্তু, তাঁর আশা যে আগামীদিনে নিজের হারানো জায়গা আবার তিনি ফিরে পাবেন। পাশাপাশি তিনি ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। দিন কয়েক আগেই তিনি একথা জানিয়েছিলেন।

গোটা দেশের কাছে যুবরাজ এখন একজন সত্যিকারের “ফাইটার”, যিনি অনায়াসে জীবনযুদ্ধ জয় করেছেন। কয়েকদিন আগে তিনি বিবাহের প্রথম বর্ষপূর্তি পালন করেছেন। ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর অবদানের কথা মাথায় রেখে গোয়ালিয়র বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডক্টরেট সম্মানে ভূষিত করেছেন।

চলতি বছরেই পঞ্জাবের এই ব্যাটসম্যান একদিনের ক্রিকেটে কামব্যাক করেছেন। ১১টি ODI খেলে তিনি ৩৭২ রান করেছেন। গড় ৪১.৩৩। কিন্তু, ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ার কারণে তিনি ভারতীয় দলে সুযোগ পাননি। যুবরাজের এই হার না মানা মানসিকতাকে কুর্ণিশ জানিয়ে তাঁর সতীর্থরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

গত অক্টোবর মাসে Yo-Yo টেস্টে পাশ করতে পারেননি যুবি। সেকারণে পঞ্জাবের হয়ে রনজি ট্রফির অধিকাংশ ম্যাচই তিনি খেলেননি। লক্ষ্য নিজের ফিটনেস আরও বাড়িয়ে তোলা। সেই লক্ষ্যে অবশেষে সফল হন।

আশা করেছিলেন শ্রীলঙ্কা সিরিজ়েই তাঁর নাম হয়ত ভারতীয় ক্রিকেট দলে আবারও মনোনীত হবে। কিন্তু, নির্বাচকরা সেই ব্যাপারে কোনও আশার আলো দেখাননি। তবে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে এই মুহূর্তে তিনি অবসরের কথা চিন্তা করছেন না। তাঁর কথায়, তিনি কবে অবসর নেবেন সেটা নিজেই ঠিক করবেন।

যুবরাজ বলেছিলেন, “আমি ব্যর্থতাকে ভয় পাই না। জীবনে বহু চড়াই উতরাই আমি অতিক্রম করে এসেছি। আমি যেমন ব্যর্থতা দেখেছি, তেমন সাফল্যও দেখেছি। একজন সফল মানুষ হতে গেলে, জীবনে সাফল্য পেতে গেলে পরাজয়ের সম্মুখীন করাটা খুব দরকার। এই পরাজয় কোনও মানুষকে আরও কঠিন করে তোলে যা তাঁকে সাফল্যের পরবর্তী স্তরে নিয়ে যায়।”

দেশের এই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান এখনও পর্যন্ত ৪০টি টেস্ট ম্যাচ, ৩০৪টি একদিনের ম্যাচ এবং ৫৮টি T-20 ম্যাচ খেলেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তিনি যথাক্রমে ১,৯০০, ৮,৭০১ এবং ১,১৭৭ রান করেছেন। ২০০৭ সালে ডারবানে আয়োজিত T-20 বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক ওভারে ছ’টি ছক্কার স্মৃতি আজও ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীদের মনের মণিকোঠায় জ্বলজ্বল করছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here