সময়টা মোটেও পক্ষে নেই তার। বিপিএলে নিজের ব্যাটে ছিল রানখরা। দল পাল্টিয়ে লাভ হয়নি মোটেই। ছিলেন রাজশাহী কিংসে, আইকন হিসেবে খেললেও ড্যারেন স্যামি থাকায় পুরো টুর্নামেন্টের সব ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা হয়নি। দলের ফলাফলও আগের মতোই। সেরা চারের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় মুশফিকুর রহিমের দল রাজশাহী।

কিন্তু, এসব ছোট ছোট দুঃখগাঁথাকে ছাড়িয়ে গেছে একটি ঘটনা। সবচে বড় কষ্টের খবরটা মুশফিক পেয়েছেন গত ১০ ডিসেম্বর। সেদিন হঠাৎ করেই জাতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক পাল্টানোর ঘোষণা দেন ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান এমপি। মুশফিকুর রহিমের জায়গায় আবারও টেস্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ফিরে পান সাকিব আল হাসান।

বিসিবির ঘোষণার দিনটিতে দেশে ছিলেন না মুশি। পরিবার নিয়ে তিনি তখন থাইল্যান্ডে ছুটিতে। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান অবশ্য ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, তারা যা কিছু করেছেন; মাশরাফী-মুশফিক এবং সাকিবকে জানিয়েই করেছেন।

মুশফিকের সঙ্গে বোর্ডের খিটিমিটি অবশ্য আগেই শুরু হয়েছিল। সাউথ আফ্রিকা সিরিজ চলাকালে টস, অধিনায়কত্ব, ফিল্ডিং পজিশন সেট করা ইত্যাদি বিষয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য করেন সিরিজে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিক। তার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান। তখন বিসিবি সভাপতি বলেন, বিশ্বের কোন ক্যাপ্টেন নিজের দল এবং দলের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে এমন মন্তব্য করতে পারেন না।

তারপর থেকেই ‘চুপ’ মুশির মুখ। সেটা এখনো অব্যাহত আছে।

সোমবার রাজধানীর মিরপুরে একটি রেস্তোরার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন মুশফিকুর রহিম। তার আসার খবরে স্বাভাবিক কারণেই গণমাধ্যমের ভিড় ছিল ‘কড়াই এন্ড কারি’ রেস্তোরায়। মুশফিকের সঙ্গে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এবং মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।

আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে একরকম তাড়াহুড়ো করেই ওই জায়গা ছেড়ে যাচ্ছিলেন মুশফিক। মাইক্রোফোন হাতে স্পোর্টস রিপোর্টাররা এগিয়ে গেলেন তার দিকে। কিন্তু আবারও মুশফিকের একই কথা: মিডিয়ার সঙ্গে কোন কথা নয়।

কেন? জানতে চাইলে বাংলাদেশের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলেন, ‘আমি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে কোর্স করছি, আগে কথা বলা শিখি, তারপর দেখি কি হয়!’

এরকম বলে দ্রুতই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিকুর রহিম।

মিডিয়া সম্পর্কিত ব্যাপার-স্যাপারগুলো দেখেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনিও বিস্মিত। উল্টো তিনি গণমাধ্যমকে বললেন, ‘কোর্সটা মুশফিক কোথায় করছে, জানতে পারলে ভাল হতো।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here