কঠোর নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। সেখানে দলীয় প্রতীকে এবারই প্রথম ভোট হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।

কঠোর নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। সেখানে দলীয় প্রতীকে এবারই প্রথম ভোট হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ১৯৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়, চলবে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। রংপুর সিটিতে এবার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪। গতবারের চেয়ে ভোটার বেড়েছে ২৪ হাজার। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু, জাতীয় পার্টির (এ) মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী কাওসার জামান বাবলার মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।

আমার প্রার্থী জিতবে: এরশাদ

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর নিউ সেনপাড়ায় শিশুমঙ্গল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ভোট দিয়ে বের হয়ে এরশাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোট দিতে পেরে আমি আনন্দিত। এখানে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছে। কোথাও কোনও অনিয়ম নেই। কোথাও কোনও গোলমাল হওয়ার আশঙ্কাও নেই। কারণ এই নির্বাচন ইসির জন্য পরীক্ষা। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রমাণ করতে হবে তারা নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রংপুরে লাঙলের জোয়ার বইছে। আমি বলেছিলাম লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে আমার প্রার্থী জিতবে। আশা করছি তাই হবে।’

জয় সুনিশ্চিত: আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী

সকাল ১০টার দিকে নগরীর সালেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু (নৌকা প্রতীক)।

ভোট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথে ঝন্টু সাংবাদিকদের বলেন, মানুষ উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছে। এ পরিবেশ অব্যাহত থাকলে জয় সুনিশ্চিত। এই ভোটের দিকে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ। তাকিয়ে আছে জননেত্রী শেখ হাসিনা। জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে টাকা এনে রংপুরের বাকি উন্নয়ন করব।

হার-জিতের প্রশ্নে ঝণ্টু বলেন, একজন হারবে একজন জিতবে। মন মানসিকতা ঠিক রেখে ভাই হিসেবে কাছে টেনে নিয়ে বাকি জীবন কাটাব।

 

জয়ের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী: জাপা প্রার্থী

এর আগে সকাল ৯টা ২১ মিনিটে নগরীর আলমনগর কলেজরোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। ভোট দেয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জয়ের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ খুবই ভালো আছে। কোনও ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির খবর পাইনি। উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিচ্ছেন।’

পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর

সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে মাহীগঞ্জের দেওয়ানতুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকবে কিনা সে ব্যাপারে বাবলা শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।

বাবলা বলেন, মাত্র ভোট শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ মোটামুটি ভালই। তবে সারা দিন পড়ে রয়েছে। কখন কী হয়, দেখতে হবে। এ সময় তিনি কয়েকটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টকে বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন।

এর আগে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রংপুরের প্রথম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক সরফুদ্দিন আহমেদ (ঝন্টু) তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোস্তাফিজুর রহমানকে পরাজিত করে মেয়র হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে সরফুদ্দিন এক লাখ ছয় হাজার ২৫৫ ভোট পেয়েছিলেন। মোস্তাফিজ ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত একেএম আব্দুর রৌফ মানিক পেয়েছিলেন যথাক্রমে ৭৭ হাজার ৮৩৫ ও ৩৭ হাজার ২০৮ ভোট। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাওসার জাহান আটকে ছিলেন মাত্র ২১ হাজারের কিছু বেশি ভোটে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here