মুক্তিযোদ্ধা দলের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল ও মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের উদ্বোধনকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মুক্তিযোদ্ধা দল অনুষ্ঠানে অনুমতি নিয়ে অনেক রকম গড়িমসি করা হয়েছে। মাইক ব্যবহার করার অনুমতি দেয়া হয় না। হল ভাড়ার অনুমতি দেয়া হয় না। অবশেষে অনুষ্ঠানের কিছুক্ষণ আধ ঘণ্টা আগে অনুমতি দেয়া হয়েছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধা দলের কোন অনুষ্ঠানে সরকার বা সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো কোন বাধার সৃষ্টি করবে না বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা দলকে বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন। মুক্তিযোদ্ধা দল তাদের নেতৃত্বের মাধ্যমে জনগণকে সঠিক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শগুলো পৌঁছে দেয়ার কাজ করছেন। সারাদেশে এই সংগঠনের শাখা আছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের কথা, চেতনা ও যে লক্ষ্য সম্পর্কে অবহিত করেন। সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন-স্বার্বভৌমত্ব এবং স্বনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তারা কাজ করে চলেছেন।

মির্জা আলমগীর বলেন, জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের আহ্বানের মধ্যদিয়ে যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং অস্ত্র হাতে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল সেই সংগঠন। দীর্ঘকাল ধরে এই সংগঠন তারা তাদের কাজ করে আসছেন। যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন তারাই এই সংগঠনের সদস্য। যারা দীর্ঘকাল ধরে আন্তরিকতার সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা বা আদর্শ এবং যার ওপর ভিত্তি করে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরছেন। মানুষের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্বকে সুসংঠিত করাই হচ্ছে তাদের প্রধান কাজ।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। একাত্তরে তাদের জীবনবাজি রেখে অস্ত্র হাতে শত্রুর সঙ্গে লড়াই করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা দলে অনেক সেক্টর কমান্ডার রয়েছেন, অনেক বীর উত্তম, বীর বিক্রম, বীর প্রতীক রয়েছেন। যারা অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠ’র স্মরণে সাতটি কবুতর উড়িয়ে সমাবেশের উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সমাবেশের উদ্বোধন ঘোষণার আগে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলান মুক্তিযোদ্ধারা। সারাদেশ থেকে কয়েকশ মুক্তিযোদ্ধা এ সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার ছবিসহ ব্যানার-ফেস্টুনে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে সমাবেশস্থল। অনুষ্ঠানের মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উপদেষ্টা শাহ মো. আবু জাফরসহ মুক্তিযোদ্ধা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত রয়েছেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here