শিক্ষা খাতে বিএনপি-জামাতের দুর্নীতির উদাহরণ টানতে গিয়ে “সহনীয় পর্যায়ে ঘুষ খাওয়ার” বিষয় উল্লেখ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরল ইসলাম নাহিদ। আর তা খণ্ডিত ও বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে কিছু গণমাধ্যম।

সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খাওয়া প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মধ্যে এমন ব্যাখ্যাই তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গত ৯ বছর দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষাখাতে নেয়া উদ্যোগের কারণে সফলতার দিক তুলে ধরে বলেন, বিএনপি-জামাত যে দুর্নীতি করে গেছে, তা দূর করতে পেরেছেন বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তবে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতের পাশাপাশি এখনও দুর্নীতি নির্মূলে চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেয়া ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের এক বক্তব্যে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয় পরিস্কার করতে বুধবার দুপুরে সচিবালয়ের নিজ দপ্তরে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত এবং পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে রেখে যাওয়া সরকারের শিক্ষাখাতে দুর্নীতি দুর করতে তাকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর দাবি সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সহনীয় পর্যায়ে ঘুষ খাওয়ার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা ছিল অতীত অভিজ্ঞতার উদাহরণ মাত্র যা কিছু গণমাধ্যম খণ্ডিত ও বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে।

শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে সরকারের দুই মেয়াদে দায়িত্ব থেকে শিক্ষাখাতে আমূল পরিবর্তন এনেছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, দুর্নীতিতে ডুবে থাকা প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছতা যেমন নিশ্চিত করতে পেরেছেন তেমনি দুর্নীতিবাজদেরও শাস্তির আওতায় আনতে পেরেছেন।

আর তা তিনি নীতি-আর্দশ, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এতো কিছুর পরেও ব্যর্থতাও থেকে গেছে, যা নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

তবে তার এ বক্তব্য নিয়ে যেসব বিশিষ্টজন সমালোচনা করেছেন, তারও জবাব দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতিতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে সরকারের সামনে এখন শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই প্রধান কাজ।

শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সমালোচনার ঝড় উঠে। শিক্ষাখাতে ঘুষ-দুর্নীতি নতুন কোনো ঘটনা না হলেও মন্ত্রীর কথায় তা বৈধতা পেয়ে যাবে বলে আশঙ্কার কথা বলাবলি হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমেও।

বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ বার্তা।

দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা টিআইবি এক বিবৃতিতে দুর্নীতির নৈতিক দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে মঙ্গলবার।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here