ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে মোকাবেলার জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইল ও আমেরিকার মধ্যে সম্প্রতি গোপন চুক্তি হয়েছে। ইসরাইল ও আমরিকার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে গত ১২ ডিসেম্বর হোয়াইট হাউজে এ চুক্তি হয় বলে গতকাল (বৃহস্পতিবার) ইসরাইলের গণমাধ্যম জানিয়েছে।

১২ ডিসেম্বরের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার ও ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেইর-বেন শাব্বাত। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে কয়েকটি ফ্রন্টে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য টিম গঠনের বিষয়ে দু পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছায়।

বৈঠকে দু পক্ষ একটি চুক্তি সই করে যা মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অক্টোবরের বক্তৃতার প্রতিফলন। অক্টোবরের ওই বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেছিলেন, ২০১৫ সালে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা ইরান মেনে চলছে বলে তিনি আর স্বীকৃতি দেবেন না।

ইসরাইল দাবি করে আসছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পক্ষ থেকে ব্যাপক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন উপায়ে এই ঝুঁকি মোকবেলার জন্য মোট চারটি টিম গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি টিম সিরিয়ায় ইরানের প্রভাব খর্ব করা এবং লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর প্রতি ইরানের সমর্থন বাধাগ্রস্ত করার জন্য কাজ করবে।

দ্বিতীয় টিম কূটনৈতিক ও গোয়েন্দাবৃত্তির মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে। আলাদা আরেকটি টিম কাজ করবে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বানচাল করার জন্য। আর চুড়ান্তভাবে ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যেকোনো যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ন্ত্রণ করবে চতুর্থ টিম। ইসরাইলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান প্রবণতা ও প্রক্রিয়ার ওপর একযোগে নজর রেখে চলেছে আমেরিকা এবং ইসরাইল।

মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে ইসরাইল, আমেরিকা ও সৌদি আরব যখন সুবিধা করতে পারে নি বরং সন্ত্রাসীদের চরম পরাজয় হয়েছে তখন নতুন এ ষড়যন্ত্রের খবর বের হলো। মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দিন দিন ইরানের প্রভাব বেড়েই চলেছে- ইসরাইল ও আমেরিকার নতুন পদক্ষেপ থেকে তা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here