ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ৩১ ডিসেম্বর রাতে আনন্দ উৎসব উদযাপনের নামে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি নিজস্ব সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে থাকে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, আনন্দের আতিশয্যে পটকাবাজি, আতশবাজি, অশোভন আচরণ, বেপরোয়া গাড়ি ও মোটর সাইকেল চালানোর মাধ্যমে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা/দুর্ঘটনা ঘটিয়ে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটায়। ক্ষেত্র বিশেষে প্রকাশ্যে অভদ্রজনোচিত আপত্তিকর আচরণ করে থাকে। এ সকল নৈতিক মূল্যবোধ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে, অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা সৃষ্টি করে।

এমতাবস্থায়, আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখ রাতে পটকাবাজি, আতশবাজি, বেপরোয়া গাড়ি, মোটর সাইকেল চালনাসহ যে কোন ধরণের অশোভন আচরণ এবং বেআইনি কার্যকলাপ হতে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির যে কোনো ধরণের আশঙ্কা রোধকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অত্যন্ত বদ্ধপরিকর। এছাড়াও ঢাকা মহানগরীতে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে নিম্নোক্ত নির্দেশনাসমূহ মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করেন তিনি।

১। ঢাকা মহানগরের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভার, রাস্তায়, ভবনের ছাদে এবং প্রকাশ্যে স্থানে কোন ধরণের জমায়েত/সমাবেশ/উৎসব করা যাবে না।

২।  উন্মুক্ত স্থানে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কোন ধরণের অনুষ্ঠান বা সমবেত হওয়া যাবে না  বা নাচ, গান ও কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না।

৩। কোথাও কোন ধরণের আতশবাজি/পটকা ফোটানো যাবে না।

৪। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাত ৮.০০ টার পরে বহি:রাগত কোন ব্যক্তি বা যানবাহন প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

৫। উপর্যুক্ত সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সম্মানিত নাগরিকবৃন্দকে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যবৃন্দকে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

৬। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় বসবাসরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাড়ি নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় প্রদান সাপেক্ষে নীলক্ষেত এবং শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।

৭। গুলশান এলাকায় প্রবেশের জন্য কাকলী ক্রসিং এবং আমতলী ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে। তবে নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় প্রদান সাপেক্ষে এ দু’টি ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।

৮। একইভাবে উপর্যুক্ত সময়ে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় যে সকল নাগরিক বসবাস করেন না তাদেরকে বর্ণিত এলাকায় গমনের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হলো।

৯। রাত ৮.০০ টার পর হাতিরঝিল এলাকায় কাউকে অবস্থান

করতে দেয়া হবে না।

১০। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বসবাসরত নাগরিকবৃন্দকে ৩১/১২/২০১৭ খ্রিঃ রাত ৮.০০ টার মধ্যে স্ব-স্ব এলাকায় প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুরোধ করা হলো।

১১। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সন্ধ্যা ৬.০০ টার পর ঢাকা মহানগরীর কোন বার খোলা রাখা যাবে না।

১২। ইংরেজি নববর্ষের প্রাক্কালে রাত ৮.০০ টা হতে পরদিন ভোর ৬.০০ টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেঁস্তোরা, জনসমাবেশ ও উৎসবস্থলে সকল প্রকার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সম্মানিত নগরবাসীর প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ উপর্যুক্ত নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

ট্রাফিক ড্রাইভারশন ও পরামর্শ:

১। গুলশান, বনানী ও বারিধারায় প্রবেশের সকল রাস্তা রাত ৮.০০ টা হতে বন্ধ থাকবে। তবে উক্ত এলাকায় বসবাসরত সম্মানিত নাগরিকগণের প্রবেশের জন্য কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) এবং আমতলী ক্রসিং (মহাখালী) খোলা রাখা হবে। সেক্ষেত্রে গুলশান, বনানী ও বারিধারায় বসবাসরত সম্মানিত নাগরিকদের রাত ৮.০০ টার মধ্যে উক্ত এলাকায় প্রবেশের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

২। রাত ৮.০০ টা হতে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা-ফিনিক্স রোড ক্রসিং, বনানী ১১নং রোড ক্রসিং, চেয়ারম্যান বাড়ি ক্রসিং, শুটিং ক্লাব, বাড্ডা লিংক রোড, ডিওএইচএস বারিধারা-ইউনাইটেড হাসপাতাল ক্রসিং ও নতুন বাজার ক্রসিং উক্ত এলাকাসমূহে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা যাবে না, তবে উক্ত এলাকা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে এসব ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে।

৩। একইভাবে ৩১/১২/২০১৭ তারিখ রাত ৮.০০ টা হতে পরদিন ০১/০১/২০১৮ তারিখ ভোর ৬.০০ টা পর্যন্ত শুধুমাত্র শাহবাগ ক্রসিং এবং নীলক্ষেত ক্রসিং দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ পরিচয় প্রদর্শন এবং সনাক্তকরণ পূর্বক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানবাহন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। এজন্য পরিচয়পত্র সাথে রাখার জন্য সকলকে বিনীত অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

৪। পলাশী ক্রসিং, ভাস্কর্য ক্রসিং, বকশী বাজার ক্রসিং, রোমানা চত্ত্বর ক্রসিং, দোয়েল চত্ত্বর ক্রসিং এবং শহিদুল্লাহ হল ক্রসিং দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সকল প্রকার গাড়ি প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

৫। হাইকোর্ট পয়েন্ট হতে আগত সকল প্রকার গাড়ি সমূহ দোয়েল চত্ত্বর বামে মোড় নিয়ে শহিদুল্লাহ হল হয়ে চাঁনখারপুল ক্রসিং দিয়ে বের হয়ে যেতে পারবে।

৬। কেউ বেপরোয়া, মদ্যপ ও বিপজ্জনক অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না।

৭। সড়ক ব্যবহার সংক্রান্তে যে কোন জরুরি প্রয়োজনে ফোন করুন: ডিসি ট্রাফিক (নর্থ)-০১৭১৩৩৭৩২২৫, এডিসি ট্রাফিক (নর্থ)-০১৭১৩৩৭৩২২৬, এসি ট্রাফিক (গুলশান)-০১৭১৩৩৯৮৪৯৭, এসি ট্রাফিক (উত্তরা)-০১৭১৩৩৯৮৪৯৮, ডিসি ট্রাফিক (সাউথ)-০১৭১৩৩৭৩২২৩, এডিসি ট্রাফিক (সাউথ)-০১৭১৩৩৭৩২২৪, ডিসি (গুলশান)-০১৭১৩৩৭৩১৬৬ ও ডিসি (উত্তরা)-০১৭১৩৩৭৩১৫৬।

যে কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সম্মানিত নাগরিকবৃন্দকে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সাহায্য গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হলো। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সহায়তা করার জন্য সম্মানিত নাগরিকদের অনুরোধ করা যাচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ইংরেজি নববর্ষ-২০১৮ উদযাপন নির্বিঘ্নে করতে সম্মানিত নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here