রাজধানী ঢাকায় বিনোদন কেন্দ্রের বড়ই অভাব। রেস্টুরেন্ট বা ফাস্টফুডের দোকানের বাইরে গুটিকয়েক যা আছে, যানজটের কারণে সেখানেও যেতে চান না অনেকে।

golap-gram-696x435

তবে নগরীর খুবই কাছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা একটি জায়গা আছে যেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব আরামেই বেড়িয়ে আসতে পারেন। জায়গাটি ‘গোলাপ গ্রাম’ নামে বেশি পরিচিত। সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুর গ্রাম এটি।

ফুল ভালো না লাগে না এমন কোনো ব্যক্তিও এ গ্রামে গেলে তার ফুলকে ভালো লাগতে শুরু করবেন। পুরো গ্রাম জুড়েই শুধু গোলাপ আর গোলাপের বাগান।

সাভার উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী বিরুলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত সাদুল্লাহপুর গ্রাম। এ গ্রামের বাসিন্দা এবং গোলাপ ব্যবসায়ী চান মিয়া জানান, এ গ্রামের প্রায় ৯৭ ভাগ লোকের জীবিকার উৎস হচ্ছে এই গোলাপ। কেউ গোলাপ চাষের জমির মালিক, আবার কেউ হয়তো সেই জমিতে গোলাপ চাষী হিসেবে কাজ করেন অথবা কেউ গোলাপ কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত।

তিনি আরও জানান, ৩০ থেকে ৪০ বছর আগে এ গ্রামে প্রথম গোলাপ চাষ শুরু হয়। ধীরে ধীরে এ ব্যবসা প্রসারিত হতে থাকে। এখানে চাষ হওয়া গোলাপ ঢাকার প্রধান ফুল বাজার শাহবাগ ছাড়াও যশোর, ঝিনাইদহ, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। প্রতি একর জমিতে গোলাপ চাষ করে সব খরচা বাদ দিয়ে একজন ব্যবসায়ীর গড়ে ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা প্রতি মাসে আয় হয়।

যেভাবে যাবেন

গ্রামটি সাভারে বলে আঁতকে ওঠার কিছু নেই। ঢাকা থেকে ট্রলারে মাত্র ৪০ মিনিটের দূরত্বে এই গ্রাম।

রাজধানীর যেখানেই থাকুন না কেন চলে আসুন মিরপুর ১ নম্বরের দিয়াবাড়িতে। খেয়াল রাখবেন এটা কিন্তু উত্তরা দিয়াবাড়ি নয়! দিয়াবাড়িতে এসে কাউকে জিজ্ঞেস করুন সাদুল্লাহপুর ঘাট কোথায়। যদি সাদুল্লাহপুর ঘাট পেয়ে যান তাহলে ট্রলারও পাবেন।

1516425911-g4

প্রতি আধা ঘণ্টা পর এখান থেকে ট্রলার ছেড়ে যায় সাদুল্লাহপুরের উদ্দেশ্যে। ভাড়া জনপ্রতি ২৫ টাকা। তুরাগ নদীর জলে ভাসতে ভাসতে ৪০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাবেন গোলাপ গ্রামে। গোলাপ গ্রামে যা দেখবেন তা তো আছেই এর বাইরে নৌকা ভ্রমণ হবে বোনাস। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত চলাচল করে এসব ট্রলার।

ট্রলার থেকে নামার পর ঘাটেই গোলাপ গ্রামে যাওয়ার জন্য রিকশা পাবেন। ১৫ থেকে ২০ টাকা ভাড়া নেবে প্রতি রিকসা। এছাড়া অটো ইজি বাইক আছে। চাইলে ৮০ থেকে ১০০ টাকা খরচে রিজার্ভ করেও যেতে পারেন। যেভাবে যাবেন সেভাবেই ফিরে আসতে পারবেন।

হারিয়ে যেতে নেই মানা

গোলাপ গ্রামে পৌঁছে পায়ে হেটে ঘুরে দেখতে পারেন পুরো গ্রাম। অথবা নৌ-ঘাট থেকেই রিজার্ভ করে নিতে পারেন একটি রিক্সা। সে রিক্সাই ঘুরে দেখতে পারেন পুরো গ্রাম। তবে বাগান ঘুরে দেখতে হলে রিক্সা থেকে কিন্তু মাটিতে পা নামাতেই হবে।

সাধারণত গ্রামের বেশিরভাগ বাগানই ঘুরে দেখতে পারবেন আপনি। তবে কেউ কেউ বাগানে প্রবেশের জন্য প্রবেশমূল্য নেয়। ২০ টাকা জনপ্রতি।

পুরো গ্রামীণ পরিবেশে কিছু সময় ব্যয় করতে ভালই লাগবে। কাঠখোট্টা নগর জীবন থেকে নগরীর এত কাছেই এমন পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। বড় একটি গোলাপের বাগানে প্রবেশ করলে মনে হবে আপনি যেন চারদিক থেকে ঘেরা এক গোলাপের সমুদ্রে দাঁড়িয়ে আছেন।

f

গোলাপ গ্রাম ঘুরতে আসা রাজধানীর গ্রীন ইউনিভার্সিটির প্রভাষক রাসেল কবির এ প্রতিবেদককে বলেন, ঢাকার অদূরেই গোলাপ গ্রাম নামে যে এত সুন্দর একটি জায়গা আছে এখানে না আসলে তা বুঝতামই না। ঢাকা শহরের যান্ত্রিক জীবন থেকে অল্প একটু দূরত্বে এসে এত সুন্দর আর নয়নাভিরাম দৃশ্য তা আসলেই মনোমুগ্ধকর। আর এর পাশাপাশি ট্রলারে করে এখানে আসা ও যাওয়ার সময়টুকুও বেশ উপভোগ করার মত।’

তিন টাকায় প্রিয়জনকে দিন গোলাপ

গোলাপ গ্রাম ভ্রমণের পাশাপাশি লাল টুকটুকে গোলাপ কিনতেও পারবেন এখানে। প্রতিটি গোলাপের দাম পড়বে ৩টাকার মত। এছাড়া স্থানীয় কিছু সবজি খেতে চাষ করা শাক-সবজিও পাবেন। ঢাকার বাজার দর থেকে খুবই কমদামে একদম সতেজ এসব সবজিও কিনতে পারেন।

সাবধানতা

এখানে বেড়ানোর ব্যাপারে কিছুটা সচেতন আর সাবধান হতে হবে আপনাকে। খেয়াল রাখতে হবে যে, এটি একটি গ্রাম এবং এখানকার মানুষেরা গ্রাম্য সংস্কৃতিতেই জীবন যাপন করেন।

তাই এখানে এসে খুব হইচই অথবা হুল্লোড় না করাই উচিত। আর বিশেষ করে কারও বাগানে প্রবেশের আগে সেখানকার কারও অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করা উচিত। প্রবেশের পর সাবধানে হাটাহাটি করুন যেন বাগান অথবা গোলাপ কলামের যেন কোন ক্ষতি না হয়।

hh

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here