প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য যা কিছু আমার পক্ষে করা সম্ভব তার সবটুকু আমি করবো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধানের ৯৫(২) (গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী  বিচারপতি নিয়োগে আইন প্রণয়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন ও অ্যাটর্নি জেনারেলের দেয়া অভিনন্দনের প্রেক্ষিতে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের এ তিনটি অঙ্গের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি দেশ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে পারে। যেখানে এ তিনটি অঙ্গের কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকে, সেখানে উন্নয়ন ব্যাহত হয়। এ তিনটি অঙ্গের কাজের মধ্যে যেন সমন্বয় রক্ষা করা যায় সেজন্য আমি সবসময় চেষ্টা করবো।

প্রধান বিচারপতি আরো বলেন,  আমাদের এমনভাবে আদালতের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে হবে যেন ধনী গরিব সকলের মধ্যে এ বিশ্বাস জন্মবে তারা সবাই সমান এবং আদালতের নিকট হতে আইন অনুযায়ী তারা ন্যায় বিচার পাবেন। এতে করে আদালতের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা দৃঢ় হবে।

বিচারকদের উদ্দেশ্যে সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন. আমি আশা করবো আমার সহকর্মী সকল বিজ্ঞবিচারক সবসময় তাদের শপথের মূল বাণী হৃদয়ে প্রথিত করে জনগন ও মানবতার কল্যাণে সংবিধানকে সামনে রেখে বিচার কাজ পরিচালনা করবেন। বার ও বেঞ্চের পারস্পরিক শ্রদ্ধা বিশ্বাস এবং সহযোগিতা একটি সমৃদ্ধ বিচার বিভাগের ভিত্তি গড়ে তুলবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

গত ১ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দিয়ে চলছিল দেশ। ১০ নভেম্বর সিনহা সিঙ্গাপুর থেকে পদত্যাগপত্র পাঠানোর আড়াই মাসেরও বেশি সময় পর ২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। একই দিন ১ অক্টোবর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আবদুল ওয়াহহাব মিয়া পদত্যাগ করেন।

আপিল বিভাগে ওয়াহহাব মিয়াই ছিলেন জ্যেষ্ঠ বিচারক। আর মাহমুদ হোসেন জ্যেষ্ঠতার ক্রম তালিকায় ছিলেন দুই নম্বরে। অবশ্য জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকেই প্রধান বিচারপতি করতে হবে, এমন কোনো বিধান নেই।

নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে বাছাইয়ের পর দিন শনিবার রাতে প্রধান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কাছ থেকে শপথ নেয়ার পর সকালে প্রথম কার্যদিবস শুরু হয় মাহমুদ হোসেনের।

সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতি। শুভেচ্ছা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও। এ সময় তাকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদীন।

মাহমুদ হোসেনের শপথ অনুষ্ঠানেও বঙ্গভবনে ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির শীর্ষ পদে থাকা বিএনপি নেতারা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here