প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে না পারায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন।

পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক-কর্মকর্তা যুক্ত— একজন কোনোভাবে প্রশ্নফাঁস করলে ইন্টারনেটের যুগে তা দ্রুত ছড়িয়ে যায় মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে এসএসসির পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস রোধে ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না- হাইকোর্টের এই রুল জারি করে দুটি তদন্ত কমিটি গ্রহণ করেছে।

সচিব বলেন, বর্তমান পদ্ধতিতে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভবপর নয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আদালতের যেকোনো আদেশ মেনে নেবে মন্ত্রণালয়, তাদের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেবে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন

তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভব নয়— আমাদের নতুন এমন কোনো প্রক্রিয়া, এমন কোনো পদ্ধতিতে যেতে হবে যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ থাকবে না।

গত কয়েক বছর ধরেই পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে।

এ মাসের শুরুতে এসএসসি পরীক্ষার শুরুর আগে শিক্ষামন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিলেও তা থামেনি।

এখন প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে মহূর্তের মধ্যে সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। যদি ইন্টারনেট না থাকত, তবে ফাঁস হলেও এতবড় সর্বনাশ হত না। সেটি সীমিত, হয়ত কেউ জানতেই পারত না, নৈতিক অবক্ষয়কেও প্রশ্ন ফাঁসের জন্য দায়ী করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা যখন ইনকোয়ারি করেছি, মনে হয়েছে আগে মানুষের নৈতিকতা-আদর্শবোধ অনেক তীক্ষ্ণ ছিল এখন অন্যরকম হয়ে গেছে। এখন গার্ডিয়ান থেকে শুরু করে সবাই এরমধ্যে ইনভলব হয়ে যাচ্ছে।

সচিব সোহরাব বলেন, মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও তিনি চেষ্টা করছেন।

অবিলম্বে এটি (প্রতিবেদন) মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে দেয়া হবে—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের যারা গুণী ব্যক্তিরা আছেন তাদেরকে নিয়ে বসে নতুন কোনো পথ উদ্ভাবন করা সম্ভব হয় তাহলে পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভব।

পরিকল্পনা থাকলেও সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় প্রশ্ন না ছাপিয়ে সকাল ১০টায় সব কেন্দ্রের স্ক্রিনে একযাগে সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ার কথা বলে সচিব জানান সেটা করতে পারলে প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ থাকবে না। সেটা করতে গেলে বিশাল ধরনের কেন্দ্র সংখ্যা, কেন্দ্রের যে পরিস্থিতি, এখনও ওই পর্যায়ে যেতে পারি নাই।

আমি বার বার বলছি যে বাস্তবতা হচ্ছে এখানে ৩০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট। ৩০ হাজারের মধ্যে আমি মনে করি যে একেবারে সবাই অনেস্ট ও সিনসিয়ার কিন্তু দু-চারজনও … যদি এই জঘন্য অপকর্মটি করেন, তাহলে প্রত্যেকের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে, সততার কোনো মূল্য থাকছে না আর জানান সচিব।

প্রশ্ন ফাঁস হলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে বলে আগের ঘোষণার বিষয়ে সচিব বলেন, এ বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে তাদের সুপারিশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here