সব সহকর্মীর সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখা সম্ভব নয়৷ কারণ সবার সঙ্গে মতের মিল হয় না৷ ফলে তাদের সঙ্গে সহজ সম্পর্কও গড়ে ওঠে না৷ মাঝে মাঝে পরিস্থিতি হাতের বাইরেও চলে যায়৷ এই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো না কখনো সবাইকেই হতে হয়৷ তবে অফিসে এই ধরনের অশান্তি অনভিপ্রেত৷ বিরক্তিকর সহকর্মীকে এড়িয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ৷

১. যে সহকর্মীর সঙ্গে আপনার নানা বিষয়ে প্রায়ই ঠোকাঠুকি লাগছে, তার কথায় অযথা মাথা গরম করবেন না৷ বা রাগ হলেও তা প্রকাশ করবেন না৷ শান্ত থাকুন৷ তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে পারেন সমস্যাটা কী? আপনিই এই ব্যাপারে প্রথম পদক্ষেপ নিন৷ আলোচনাতেও কোনো ফল না হলে বিষয়টা নিয়ে অযথা মাথা ঘামাবেন না৷ বরং কাজে মন দিন৷

২.  কারো কোনো ব্যবহার অপছন্দ হলে প্রথম থেকেই সেটা তাকে স্পষ্ট জানান৷ আপনার বিরক্তির কারণটাও বলুন৷ হতে পারে তিনি না বুঝেই এরকম ব্যবহার করে ফেলেছেন৷ পরেরবার তিনিও সতর্ক থাকবেন৷ কিন্ত্ত জানানোর পরেও কোনো কাজ না হলে তার সঙ্গে একটা নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে চলুন৷ এতে অপ্রিয় কথাবার্তার আর কোনো সুযোগই থাকবে না৷

৩. নিজেদের সমস্যার মধ্যে কখনো অন্য কাউকে আনবেন না৷ অন্য কোনো সহকর্মীর সঙ্গে এই নিয়ে চর্চায় যাবেন না৷ অযথা সবসময় নিজেদের সমস্যার কথা কাজের মাঝে টেনে আনবেন না৷ কোনো কাজ একসঙ্গে করার দায়িত্ব পেলে, তাও পূরণ করুন৷ কারণ অফিসটা কাজ করার জায়গা, গসিপ করার নয়৷ যেকোনো কর্তৃপক্ষই একমাত্র কাজকেই গুরুত্ব দেয়৷

৪. নিজেদের সমস্যা নিজেদের মধ্যেই রাখুন৷ ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের পক্ষপাত চাইবেন না৷ এটা স্কুল নয় যে প্রতিটি কথার নালিশ জানাবেন৷ প্রাপ্তবয়স্কের মতো নিজেই সমস্যা সামলান৷ একান্ত পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে তখন সমস্যার কথা বসকে জানান৷ তবে মনে রাখবেন, সহকর্মীর নিন্দা করা আপনার কাজ নয়৷ এই সমস্যা থেকে কীভাবে আপনি মুক্তি পেতে পারেন সেটা জানাই হবে আপনার উদ্দেশ্য৷

৫. মনে রাখবেন, অফিস আপনার জীবন নয়৷ জীবনের একটা অংশ মাত্র৷ তাই এই নিয়ে অতিরিক্ত ভাববেন না৷ অন্য কোনো শখে নিজের পজিটিভ এনার্জি ব্যয় করুন৷ বই পড়ুন, গান শুনুন, নতুন কিছু শিখুন৷ গঠনমূলক কিছু সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করলে দেখবেন এই সব সমস্যাকে আর সমস্যা বলে মনেই হবে না৷

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here