শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও হেরে গেল বাংলাদেশ। সফরকারীরা ম্যাচটি জিতে নিল ৭৫ রানে। সেই সাথে দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজটি শ্রীলঙ্কা জিতে নিল ২-০ ব্যবধানে। বাংলাদেশ সফরে এসে তিনটি সিরিজ খেলে তিনটিতেই শিরোপা জিতে নিল লঙ্কানরা।

গত মাসে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ত্রিদেশীয় সিরিজ। ওই সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলঙ্কা। রানার আপ হয় বাংলাদেশ। এরপর বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতে নেয় চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজেও শিরোপা জিতে নিল দিনেশ চান্দিমালের দল।

এদিন টসে জিতে গুনাথিলাকা-কুশল মেন্ডিসদের ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার এ ম্যাচটি শুরু হয়।

ব্যাটিংয়ে নেমেই ঝড় তোলেন দুই লঙ্কান ওপেনার দানুস্কা গুনাথিলাকা ও কুশল মেন্ডিস। তাদের ব্যাটিয়ে ঝড়ে মাত্র ৫.২ বলেই দলীয় অর্ধশতক পূর্ণ করেন তারা। ২৯ বলে ক্যারিয়ারের ২য় ফিফটি তুলে নেন মেন্ডিস। মাত্র ২ রানের জন্য শত রানের জুটি করতে পারেননি তারা। মোস্তাফিজ-নাজমুল-রাহীরা যখন ব্যর্থ, তখন দেরিতে হলেও বল হাতে সফলতা আনেন সৌম্য সরকার। দলীয় ৯৮ রানের ফেরান গুনাথিলাকাকে।

থিসারা পেরেরাও এসে দ্রুত গতিতে স্কোর গড়তে থাকেন। ২য় জুটিতে তারা ৫১ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ১৫৯ রানে পেরেরা আবু জায়েরের শিকার হোন। পেরেরা ফেরার পর দলীয় ১৬০ রানের নিজের ঝড়ো ইনিংস থামান ওপেনার কুশল মেন্ডিস। মোস্তাফিজের শিকার হওয়ার আগে করে ৪২ বলে ৭২ রান। পরে উপুল থারাঙ্গা আর দাসুন শানাকা মিলে স্কোরটা ২০৯ রানে দাঁড় করান।

গুনাথিলাকা-কুশল মেন্ডিসদের দেয়া ২১০ রানের পাহাড়ে পড়ে শুরুতেই হতাশায় ছন্দপতন হয় টাইগারদের। দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলেই ব্যাটে হতাশার ছাপ দেখান সৌম্য সরকার। দলীয় ৮ রানের ধনঞ্জয়ার শিকার সৌম্য। দুই ওভার পরেই সৌম্যের পাশের চেয়ার দখল করেন মুশফিক রহীম।

মুশফিক দলীয় ১৪ রানের পর ২২ রানেই ফেরেন ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দলে ফেরা মোহাম্মদ মিথুন। মিথুনের ফেরার পর কিছু সময় নেন ইনজুরি থেকে ফেরা তামিম ইকবাল। তামিম দলীয় ৫৯ আর আরিফুল ৬৮ রানে ফিরলে ব্যাটিং চাপে পড়ে টাইগাররা।

সাইফউদ্দিনকে নিয়ে পরাজয়ের ব্যবধানটা কমাতে গিয়ে ব্যর্থ হন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহও। দলীয় অধিনায়কের ব্যর্থতার জন্য দায়ী সাইফউদ্দিনও। দুজনের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেয় শ্রীলঙ্কার ফিল্ডাররা। অধিনায়ক ১১০ রানের মাথায় ফিরলে পরাজয়ের ব্যবধানটা বেশি কমানো সম্ভব হয়নি বাকি ব্যাটসম্যানদের। সাইফ ১১৩, মেহেদী হাসান ১৩২ ও মোস্তাফিজ দলীয় ১৩৫ রানের ফিরলে ইনিংস সেখানেই শেষ হয়। পূর্ণ হয় হারের ষোলকলা। মাহমুদুল্লাহ ৪১, তামিম ২৯, সাইফ ২০ এবং মেহেদী হাসান ১১ রান ছাড়া বাকিরা দুই অংকের কোটায় পৌঁছাননি।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে শেহান মাদুশানাকা ও দানুস্কা গুনাথিলাকা ২টি এবং আমিলা আপনসো, দাসুন শানাকা, আকিলা ধনঞ্জয়া, ইসুরু উদানা, জীবন মেন্ডিস একটি করে উইকেট নেন। আর বাংলাদেশের পক্ষে মোস্তাফিজ, আবু জায়েদ, সাইফউদ্দিন ও সৌম্য সরকার একটি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ৭৫ রানে জয়ী শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কা ইনিংস: ২১০/৪ (২০ ওভার)

(দানুশকা গুনাথিলাকা ৪২, কুসল মেন্ডিস ৭০, থিসারা পেরেরা ৩১, উপুল থারাঙ্গা ২৫, দাসুন শানাকা ৩০*, দিনেশ চান্দিমাল ২*; আবু জায়েদ রাহি ১/৪৫, নাজমুল ইসলাম অপু ০/২৮, মেহেদী হাসান ০/২৫, মোস্তাফিজুর রহমান ১/৩৯, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১/৪৬, সৌম্য সরকার ১/২৫)।

বাংলাদেশ ইনিংস: ১৩৫ (১৮.৪ ওভার)

(তামিম ইকবাল ২৯, সৌম্য সরকার ০, মুশফিকুর রহিম ৬, মোহাম্মদ মিথুন ৫, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪১, আরিফুল হক ২, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২০, মেহেদী হাসান ১১, মোস্তাফিজুর রহমান ৮, আবু জায়েদ রাহি ২, নাজমুল ইসলাম অপু ১*; শিহান মাদুশানকা ২/২৩, আকিলা ধনঞ্জয়া ১/২০, দাসুন শানাকা ১/৫, থিসারা পেরেরা ০/৩৩, আমিলা আপোনসো ১/৩১, জীভন মেন্ডিস ১/৮, ইসুরু উদানা ১/১২, দানুশকা গুনাথিলাকা ২/৩)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: কুসল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা)।

প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: কুসল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা)।

 

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here